চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 15 Apr 2026, 03:05 AM
প্রথম লেগের দুই গোলের ব্যবধান শুরুর আধা ঘন্টার মধ্যেই ঘুচিয়ে দিল বার্সেলোনা। জাগাল ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ এক সম্ভাবনা। কিন্তু তাদের সেই স্বস্তি উবে গেল একটু পরই। বাকি সময়ে অনেক চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না হান্সি ফ্লিকের দলের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ।
কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনা ২-১ গোলে জিতলেও, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় পরের ধাপে জায়গা করে নিয়েছে দিয়েগো সিমেওনের দল।
মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে লামিনে ইয়ামাল ও ফেররান তরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দুই লেগ মিলিয়ে তখন সমতা। তবে প্রথমার্ধেই ব্যবধান কমিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকোকে এগিয়ে নেন আদেমোলা লুকমান। পরে আর কেউ জালের দেখা পায়নি।
ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখলে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময় মিলিয়ে শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বার্সেলোনাকে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হারা ম্যাচে পাউ কুবার্সির লাল কার্ডে প্রথমার্ধেই ১০ জনে পরিণত হয়েছিল কাতালান দলটি।
৯ বছরের মধ্যে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল আতলেতিকো।
ফিরতি লেগে বার্সেলোনা প্রায় ৭১ শতাংশ পজেশন রাখলেও, গোলের জন্য দুই দলই শট নেয় ১৫টি করে। লক্ষ্যে ছিল সফরকারীদের আটটি, স্বাগতিকদের পাঁচটি।
বার্সেলোনার শুরুটা হয় ইতিবাচক। প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। বক্সের বাইরে থেকে ইয়ামালের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন গোলরক্ষক হুয়ান মুসো।
গোলের জন্য বেশিক্ষণ অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হয়নি বার্সেলোনাকে। চতুর্থ মিনিটে আতলেতিকোর ক্লেমোঁ লংলের থেকে আলগা বল পেয়ে তরেস পাস দেন বক্সে। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠান ইয়ামাল।
অষ্টম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আতলেতিকো। তবে বক্সের ভেতর থেকে কোনাকুনি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড লুকমান।
নবম মিনিটে অল্পের জন্য দ্বিতীয় গোল পায়নি বার্সেলোনা। ইয়ামালের থ্রু বলে ছুটে গিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করতে চেয়েছিলেন দানি ওলমো, কিন্তু হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন মুসো।
চাপ ধরে রেখে আক্রমণ করে যায় বার্সেলোনা। ২৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা টানে তারা। ওলমোর পাস বক্সে ঢুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটু এগিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ শটে জালে পাঠান তরেস।
পরের মিনিটেই আরেকটি গোল হতে পারত। ডান দিক থেকে ইয়ামালের ক্রসে ফের্মিন লোপেসের হেড কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মুসো। ফলো থ্রুতে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের বুট আঘাত করে ফের্মিনের মুখে, রক্তাক্ত হয়ে মাঠে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। ডান দিক থেকে মার্কোস ইয়োরেন্তের পাস বক্সে পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান অরক্ষিত লুকমান।
৪১তম মিনিটে ইয়োরেন্তের ধাক্কায় বক্সে ওলমো পড়ে গেলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে বার্সেলোনা, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি। ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি। পরক্ষণে তরেসের শট ঠেকিয়ে দেন মুসো।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আতলেতিকোর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। তবে অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন তরেস।
দ্বিতীয়ার্ধেও বেশিরভাগ সময় খেলা হতে থাকে আতলেতিকোর অর্ধে। ৫৫তম মিনিটে কাছ থেকে তরেসের প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন মুসো। পরক্ষণে বক্সে গাভির শট লংলে আটকে দেওয়ার পর, ভলিতে জালে পাঠান তরেস। তবে বার্সেলোনার উল্লাস থামিয়ে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
৬৫তম মিনিটে আতলেতিকোর বক্সে পায়ের দারুণ কারিকুরিতে কয়েক ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে পাস দেন ইয়ামাল, কিন্তু উড়িয়ে মারেন ওলমো। ৬৮তম মিনিটে তরেস ও লোপেসকে উঠিয়ে মার্কাস র্যাশফোর্ড ও রবের্ত লেভানদোভস্কিকে নামান বার্সেলোনা কোচ।
৭৪তম মিনিটে বিপদে পড়তে বসেছিল বার্সেলোনা। কাছ থেকে প্রতিপক্ষের প্রচেষ্টা পা দিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক গার্সিয়া।
৭৭তম মিনিটে আলেকসান্দার সরলথকে পেছন থেকে টেনে ধরে শুরুতে হলুদ কার্ড দেখেন এরিক গার্সিয়া। পরে মনিটরে রিপ্লে দেখে বার্সেলোনা ডিফেন্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড দেন রেফারি।
আট মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লেভানদোভস্কির হেড ঠেকান মুসো। সপ্তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পান রোনাল্দ আরাউহো, কিন্তু দূরের পোস্টে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি বার্সেলোনা ডিফেন্ডার।
একটু পরই বাজে শেষ বাঁশি, উল্লাসে মাতে আতলেতিকো শিবির, তখন হতাশায় নিমজ্জিত বার্সেলোনা।