১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লিভারপুলকে আবার হারিয়ে সেমি-ফাইনালে পিএসজি

জোড়া গোলে দলকে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এগিয়ে নিলেন উসমান দেম্বেলে।

লিভারপুলকে আবার হারিয়ে সেমি-ফাইনালে পিএসজি
দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে নিয়ে সমর্থকদের দিকে ছুটে যান উসমান দেম্বেলে। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Apr 2026, 03:22 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:25 PM

আগের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে অসাধারণ কিছু করতে হতো লিভারপুলের। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তুলে তারা চেষ্টা করল বটে; কিন্তু জালের দেখা পেল না। উল্টো উসমান দেম্বেলের নৈপুণ্যে আরেকটি জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল পিএসজি।

অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। দুটি গোলই করেছেন দেম্বেলে। ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জয়ী দলটি দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

প্রথমার্ধে গোলের জন্য কেবল চারটি শট নিতে পারা লিভারপুল বাকি অংশে শট নেয় আরও ১৭টি, যদিও মাত্র পাঁচটি শটই লক্ষ্যে ছিল তাদের। আর পিএসজি ১২ শটের ছয়টি রাখতে পারে লক্ষ্যে।

মাঠে বল গড়ানোর আগেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল গর্জন, প্রিয় দলকে উদ্বুদ্ধ করতে স্বাগতিক সমর্থকরা গাইছিল গান। যদিও, প্রথমার্ধে বল দখলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে পিএসজি। অবশ্য পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল দুই দলই।

ঘড়ির কাঁটা আধা ঘণ্টা ছোঁয়ার আগে বড় ধাক্কা লাগে লিভারপুল শিবিরে; চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন উগো একিটিকে। বদলি নামেন মোহামেদ সালাহ।

মাঠে নামার পরক্ষণেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন সালাহ। তার ডি-বক্সে বাড়ানো ক্রসে কোনোমতে পা ছোঁয়ান মিলোস কেরকেস, ঝাঁপিয়ে কোনোমতে বল আটকান গোলরক্ষক। তারপরও সুযোগ ছিল, আলাগা বলে শট নেন ভার্জিল ফন ডাইক, গোলমুখে অবিশ্বাস্যভাবে স্লাইড করে দলকে বাঁচান মার্কিনিয়োস।

বিরতির পর আলেকসান্দার ইসাককে আর নামাননি লিভারপুল কোচ। তার বদলি নেমে তিন মিনিটের মধ্যে দলকে এগিয়ে নিতে পারতেন কোডি হাকপো, ঝাঁপিয়ে কোনোমতে বল বাইরে পাঠান গোলরক্ষক। ওই কর্নারে জো গোমেজের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে লিভারপুল। এর বেশিরভাগই অবশ্য পিএসজির রক্ষণে আটকা পড়ছিল। ৬৪তম মিনিটে ডি-বক্সে বল দখলে নিতে গিয়ে আলেক্সিস মাক আলিস্তের পড়ে গেলে প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, তবে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি।

৬৭তম মিনিটে গোমেজকে তুলে রিও নুগোমোহাকে নামান কোচ এবং মাঠে নামার চতুর্থ মিনিটে দারুণ একটি শট নেন তরুণ তারকা। ঝাঁপিয়ে সেটা আটকে দেন সাফোনোভ।

পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে দারুণ এক গোলে পিএসজির সেমি-ফাইনালের টিকেট একরকম নিশ্চিত করে ফেলেন দেম্বেলে। সতীর্থের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে, এক পলকে সামনে দেখে নিখুঁত শট নেন ফরাসি তারকা, ঝাঁপিয়ে নাগাল পাননি গোলরক্ষক।

আর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরেকটি পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে। বার্কোলার পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন গতবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিএসজি খেলবে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে।

আতলেতিকোর মাঠে জিতেও বার্সেলোনার বিদায়