Published : 18 Sep 2026, 10:32 PM
পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে একদল লোক।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আসামির বহুতল ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল, তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় বাধা দেওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি নিখোঁজ হয়। বুধবার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মেয়েটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২১)।
বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক মুদিদোকানি। তিনি ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী শিশুটিকে হত্যার আগে মুদিদোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণ প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিন জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ সংগঠিত হয়ে একটি মিছিল নিয়ে আসামির বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বহুতল ভবনের ভেতর ঢুকে দরজা-জানালা ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
এলাকাবাসী জানান, নিষ্পাপ শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশে ক্রমাগত ঘটতে থাকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার না হওয়া এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা জানিয়েছেন ওসি ওসি তরিকুল ইসলাম।