Published : 09 Aug 2025, 10:03 AM
ছোট পর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ জুলাইয়ের শুরুতে এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ১১ মাস তিনি কোনো কাজ পাননি, কেউ ডাকেনি!
আরেক অভিনেত্রী মৌ শিখা ২৫ জুলাই এক ফেইসবুক পোস্টে লিখলেন, “গত আড়াই মাস ধরে নিজেকে অভিনেত্রী ভাবতে লজ্জা হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন কাজ করতাম সেখানে আড়াই মাস যাবত মাসে চার থেকে পাঁচ দিন কাজ করছি। তাহলে কীভাবে মনে হবে আমি অভিনয় শিল্পী?”
নাটকের সংখ্যা ‘কমে গেছে’, নতুনদের ভিড়ে এক সময়ের ব্যস্ত শিল্পীরা ‘ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন’–এমন সব হতাশার বাক্যে গত মাসখানেক ধরেই সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে। নাটকের কলাকুশলীদের কাজ কমে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে।
আসলে কী ঘটেছে? নাটক কি কমে গেছে? নাকি কোনো কোনো অভিনয়শিল্পীকে কাজ দেওয়া হচ্ছে না? এই শিল্পে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে?
কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা বললেন, ঈদের পর প্রতিবছরই বিনোদনঅঙ্গনের এই সময়টা 'সাময়িক ভাটা' চলে; এবারও তাই হয়েছে। তাছাড়া বর্ষাকালে জুন থেকে কয়েক মাস আউটডোর শুটিং কম হয়।
তাদের দাবি, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে দেশের ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে’ ভাটার এই সময়টা এবার একটু ‘দীর্ঘ হতে পারে’ বলে কারো কারো ধারণা।
কাজের গতি কমে যাওয়ায় হতাশা ও দুঃশ্চিন্তার কথা বলেছেন কেউ কেউ। তবে অন্যরা একে ইন্ডাস্ট্রির জন্য 'শোচনীয় অবস্থা' হিসেবে তুলে ধরতে চান না।

‘বিচলিত হওয়ার কিছু নেই’
সেই ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন করতেই অভিনেত্রী মৌ শিখা গ্লিটজকে বললেন নাট্যাঙ্গনে নতুন মুখের প্রবেশ এবং সিনিয়র শিল্পীদের কাজ কমে যাওয়ার কথা।
“আমি কিন্তু শুধু আমার কথা বলিনি, সবার হয়ে কথাগুলো বলেছি। আমি কাজ করছি, ডাবিং করছি, নাটক করছি তবে একটু কম করছি আরকি! আমি আফসোস করেছি কাজের সংখ্যার জন্য, একজন শিল্পী হয়ে।”
অতীত এবং বর্তমানে কাজের সংখ্যার পার্থক্য তুলে ধরে মৌ শিখা বলেন, “টাকাটা পরের বিষয়, কিন্তু একজন শিল্পীর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সে খুব হতাশ থাকে, একা একা পাগল লাগে। কারণ জীবনের পুরো সময়টাই তো এখানেই, অভিনয়টাই তার কাছে সব। কিন্তু আমার এই কথাগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমার দুর্দশা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।”
অভিনয়জীবনে বেশ লম্বা সময় পার করা এই অভিনেত্রীর ক্ষোভ হল, তাদের মত যারা দীর্ঘদিন ধরে নাটকে কাজ করছেন, তাদের হাতে কাজ কম আসছে।
“নতুন নতুন মুখ নিয়ে কাজ হচ্ছে, যাদের চিনি না, যারা অভিনয় পারে না, তারাই এখন ‘মা’ চরিত্র করছে। তাহলে আমরা এত বছর থিয়েটার করে এসেও কী পেলাম?”
ফেইসবুকে দেওয়া পোস্ট নিয়ে শিখা বলেন, বাংলাদেশের নিয়ম হল, ‘মৃত্যুর পর’ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
“তাই আমি একটু অভিমান করে বলেছিলাম আমি মারা গেলে খোঁজ নিতে হবে না। আমাদের প্রতি যদি এতই মায়া থাকে তাহলে আমাদের কাজ দিয়ে ব্যস্ত রাখেন।"
এক যুগের বেশি সময় ধরে বাবা চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা মাসুম বাশার। কাজ কমে গেছে কি না, সেই প্রশ্নে ভিন্ন মত দিয়েছেন তিনি।
বাশার বলেন, “নাটকের কাজ একবারে কমে যাচ্ছে, এমনটা কিন্তু আমি দেখছি না। আমার যে পরিমাণ কাজ করার কথা, আগের মত সেই পরিমাণ কাজই করছি।”
তার ভাষ্য, কোরবানির ঈদের পরে মাস দুয়েক কাজ কম হয়, এটা প্রতিবছরই। বেশিরভাগ শিল্পীই সারা বছর কাজ করেন, প্রধানশিল্পীরা একটু বিরতি নেন, ছুটি কাটায়, ঘুরতে যান। এটা নিয়ে ‘বিচলিত হওয়ার কিছু নেই’।
নাটক, ওটিটি বা সিনেমায় সহশিল্পী হিসেবে দেখা যায় অভিনেতা এরফান মৃধা শিবলুকে।
কাজ কেমন চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঈদের আগের পেন্ডিং একটা কাজ শেষ করলাম, একটা ধারাবাহিকের কাজ করছি। আমি একটু বেছে বেছে যেহেতু কাজ করি, সেই তুলনায় আগের থেকে আমার কাজ বেড়েছে।”
‘ইন্ডাস্ট্রিতে ধস নেমেছে’ এ কথা মানতে নারাজ মৃধা।
তিনি বলেন, “যেহেতু বর্ষাকাল, আউটডোর শুটিং করা যায় না বৃষ্টির কারণে, জুন, জুলাইয়ে কাজ কিছুটা কম থাকে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তো উৎসবকেন্দ্রিক, নভেম্বর থেকে হয়ত কাজ বাড়বে।”
নাটকের নিয়মিত মুখ তানজিম সাইয়ারা তটিনী বলেছেন, তিনি এবং তার অনেক সহশিল্পী নিয়মিত কাজ করছেন, ঈদের ছুটির পর আবার কাজে ফিরেছেন।
ধারাবাহিক নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকা অভিনেত্রী স্বর্ণলতা দেবনাথ বলেন, "ধারাবাহিক নাটকের কাজ কিছুটা কমেছে, আগে যেখানে মাসে ৬ বা ৭ টা সিরিয়াল করতাম, সেখানে এখন ৪ টা সিরিয়াল করছি। অগাস্টের পর অনেক ধারাবাহিকের কাজ বন্ধ ছিল, যেটা এখন আবার শুরু হচ্ছে। একবারে কমেনি, কিছুটা কমেছে। ধারাবাহিকে তো অনেক শিল্পী কাজ করতে পারেন। সেটা কমে গেলে অনেকের কাজ কমে যায়।"

সত্যতা কতটা?
পরিচালক সালমান রহমান খান সম্প্রতি মোশাররফ করিম ও সাফা কবিরকে নিয়ে ‘পাগলু’ নামের একটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন।
নাটক ইন্ডাস্ট্রি কী আসলেই স্থবির হয়ে যাচ্ছে? এই পরিচালক বললেন ‘কাজ বন্ধ হচ্ছে’ বলে যেভাবে খবর চাউর হয়েছে, এর সত্যতা ততটা নেই।
“শুটিং ভালোই চলছে। আমার তো মোশাররফ করিমের শিডিউল পেতে কষ্ট হয়েছে।”
তবে আগের বছরের সঙ্গে তুলনায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রযোজকের সংখ্যা কমে গেছে বলে জানালেন সালমান।
“শিল্পীদের মধ্যে যাদের দর্শক চাহিদা আছে, তারা কাজ করছেন। নাটক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হতাশা তৈরি করাটা ভুল।”
আরেক নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বললেন, কাজ কমে যাওয়ার বিষয়টি কেবল শিল্পীদের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের অনেক খাতেই সেটি হয়েছে। তবে পরিস্থিতির বদল হবে বলে তিনি আশা করেছেন।
“ফেইসবুক ও ইউটিউবে রেভিনিউ কমে গেছে, আর স্পন্সর কিছুটা কমেছে, তাই কাজ কম। কিন্তু এটা ঠিক হয়ে যাবে।”
একাধিক পরিচালক বলেছেন, নাটকের দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে নিলয় আলমগীর, তৌসিফ মাহবুব, ফারহান আহমেদ জোভান, মুশফিক আর ফারহানসহ আরো কয়েকজন ঈদের পর নাটকের নিয়মিত কাজে ফেরেননি।
কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া নাট্যাঙ্গন ছেড়ে চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো, মেহজাবীন চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূরসহ অনেক অভিনয়শিল্পী।
একজন পরিচালক নাট্যাঙ্গনের বহুমুখী সংকটের কথা গ্লিটজের কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “নাটকের প্রধান অভিনয়শিল্পীদের অনেকে এখন নাটকে নেই। কেউ ওটিটি, চলচ্চিত্র কিংবা অন্য মাধ্যমে চলে গেছেন। কেউ আবার দেশে নেই। যেমন অপূর্ব ভাই ছয় মাস পর দেশের বাইরে ছিলেন, আগামীতে নিলয় আলমগীর যাবেন, মোশাররফ ভাই যাবেন।
“অন্য যেসব শিল্পী তৌসিফ, জোভান, ফারহানসহ অনেকে ঈদের পর নাটকে নিয়মিত না। কয়েকটা বিজ্ঞাপন করলেই তাদের হয়ে যায়। অনেক অভিনয়শিল্পী ভালো গল্প, বাজেট না পেলে কাজ করেন না, সেটা স্বাভাবিক। তাই ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের কাজ কমে যাচ্ছে।”
টেলিভিশন স্টেশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই নাটক নির্মাতা। তিনি বলেন, টেলিভিশনে একক নাটক প্রচার কম হচ্ছে, এখন ধারাবাহিক বেশি চলে। ঈদের সময় ছাড়া অনেক চ্যানেল নাটক বানায় না বললেই চলে।
বাজেট সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাজেট এক থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে। বাধ্য হয়ে নতুন শিল্পী নিয়ে কাজ করতে হয়, যেন সেই বাজেটে কাজ শেষ করা যায়।
“ভিউ হচ্ছে নিন্মমানের গল্প থেকে। গল্প ভালো না হলেও, নাম একটু উল্টাপাল্টা হলে বা সুরসুরি থাকলে ভিউ হয়। প্রযোজকরাও তাতে টাকা দেন। দর্শকের রুচি আমরা নিজেরাই সেদিকে নিয়ে গেছি। এখন ভালো কিছু দিলে দর্শক আর ধরে না।”
তিনি বলেন, “বড় শিল্পীদের রেমুনারেশন বেশি, বাজেট কম থাকায় যারা দর্শককে বিনোদন দিতে পারে তাদের নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলো এখন ধারাবাহিক কমিয়ে খরচ বাঁচাতে বিদেশি ধারাবাহিক ডাবিং করে চালাচ্ছে। এতে সহশিল্পীদের কাজ কমছে।”

টেলিভিশনে একক নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও টিভি স্টেশনগুলো বলছে ভিন্ন কথা। নাটকের সংখ্যায় ঘাটতি নেই বলেই দাবি তাদের।
পাশাপাশি বাংলায় ভাষান্তরিত বিদেশি ধারাবাহিক প্রচারের পেছনেও রয়েছে দর্শক চাহিদা এবং বৈচিত্র্য আনার কৌশল।
মাছরাঙা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান এ এম আরিফুর রহমান গ্লিটজকে বলেন, তারা নিয়মিতভাবে একক ও ধারাবাহিক নাটক প্রচার করছেন।
যেহেতু বাজেটটা নির্ধারণ করা থাকে, নাটকে বিনিয়োগ করতে সমস্যা হয় না বলে দাবি করেন আরিফুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের ধারাবাহিক নাটকের সংখ্যা আগের মতই আছে।”
বিদেশি ধারাবাহিক বাংলায় ভাষান্তর করে ‘দর্শকের রুচি বুঝে’ চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আরিফুর রহমান।
তিনি বলেন, “দর্শক তো বিভিন্ন ধরনের হয়। তিনটি দেশি নাটকের সঙ্গে একটি বিদেশি ধারাবাহিক দিয়ে একটু বৈচিত্র্য করার চেষ্টা করি। দেশের দর্শকদের ডাব করা সিরিয়ালের প্রতি একটা আগ্রহ সবসময় ছিল। আমরা নতুন নতুন একক নাটক, ধারাবাহিক নাটক চালাচ্ছি।
"গত বছর সরকার পতনের পর স্পন্সর পাওয়া নিয়ে একটা সমস্যা ছিল, কিন্তু চলতি বছরের এই ছয় মাসে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। বিজ্ঞাপন বুকিং এবং স্পন্সরে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা সীমাবন্ধতার মধ্যে নেই।"
একই ধরনের বক্তব্য দীপ্ত টেলিভিশনের প্রোগ্রাম হেড এজাজ উদ্দিন আহমেদের। নাটক কম হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না।
“আমাদের চ্যানেলে নাটক বরং বেড়েছে, প্রোডাকশন বেড়েছে। ধারাবাহিক কমেনি, কারণ চ্যানেলের একমাত্র নিজস্ব প্রোডাকশন এটাই। আমরা চারটি ধারাবাহিক প্রচার করছি, দশ বছর ধরে এই স্ট্রাকচারেই নাটক চলছে।”
বিদেশি ধারাবাহিক চালানো নিয়ে তিনি বলেন, “প্রাইম টাইমে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চার ঘণ্টার দেশি ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে। এক ঘণ্টা বিদেশি সিরিয়াল চলে–এটা দর্শক এবং চ্যানেলের বিজনেস দুটো বিবেচনায় করা হয়। এতে কাজ বরং বেড়েছে। ডাবিং ধারাবাহিকে কিন্তু পরিচিত শিল্পীদের কণ্ঠই ব্যবহার করা হয়।”
নতুন একক নাটক কম তৈরি হচ্ছে-এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে এজাজ বলেন, ঈদ ছাড়া খুব একটা একক নাটক তারা বানান না।
“ঈদে ২৫ থেকে ৩০টি প্রোডাকশন তৈরি হয়, সেগুলো ঈদের পর পুনঃপ্রচার হয়। সপ্তাহে একটা করে প্রচার করলেই সারা বছরের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। আগেও যেমন চলত, এখনও তেমনই চলছে।”
ইউটিউব চ্যানেলগুলো ঈদ বা বিশেষ দিবসে সাধারণত বড় কাজ করে। গত তিন মাস ধরে অনেক টেলিভশনের দর্শক ও রোজগার কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজকরা।
ইউটিউবে সব থেকে বেশি নাটক প্রচার করে সিএমভি চ্যানেল। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রযোজক সাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, একটা ভালো নাটক নির্মাণ করতে গেলে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়। কারণ শিল্পীদের পারিশ্রমিকেই ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চলে যায়।
“এখন পরিস্থিতি এমন, এত টাকা খরচ করে সেই নাটক থেকে লাভ তুলে আনা কঠিন। আমরা কিন্তু লোকসান হলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রোডাকশন করার। কোরবানির ঈদের পর সব সময়ই কাজ কম হয়। আর অভিনয়শিল্পী তো অনেক, সবাইকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই হয়তো সবাই মনে করছেন নাটক কম হচ্ছে।”

নভেম্বর, ডিসেম্বরে উৎসবকেন্দ্রিক কাজ বাড়বে
‘নাটক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খারাপ’–এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন নাট্য প্রযোজক সমিতি টেলিপ্যাবের নেতা সাজু মুনতাসীর।
তিনি বলেন, “দেশে ১৭ বছর পর সরকার পরিবর্তন হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সব সেক্টরের মত সংস্কৃতি অঙ্গনেও বিগত সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করত। সেটা বন্ধ হওয়ায় কিছুটা কাজ কমেছে। এই পরিস্থিতিকে ইন্ডাস্ট্রির 'শোচনীয় অবস্থা' বলার কিছু নেই। কারণ যে কোনো সেক্টরের তুলনায় বিনোদন অঙ্গন ভালো আছে।
"কোরবানি ঈদের পর এমনিতেই কাজ কম থাকে। নভেম্বর, ডিসেম্বরে উৎসবকেন্দ্রিক কাজ বাড়বে। ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদ ঘিরে কাজ বাড়বে। আর স্পন্সর কমে যাওয়ার যেই বিষয়টা সেটা নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। অধৈর্য হওয়ার কিছু নেই।"
অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপুও বলছেন, ঈদের পর দুই-এক মাস সময় ‘ডাল’ যায়, এখন সেই সময়টা চলছে।
“কিন্তু সেই অবস্থা প্রতিবার ইন্ডাস্ট্রি কাটিয়ে ওঠে, এবার কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবে সেটা বলা যাচ্ছে না।”
রাজধানীর উত্তরায় অন্তত ১৭টির মত শুটিং বাড়ি রয়েছে। শুটিং হাউজের পরিস্থিতি জানতে কথা হয় লাবণী চার শুটিং হাউজের মালিক আসলাম হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, “এই সময়টা শুটিং একটু কম হচ্ছে। ঈদের পর অনেক শিল্পী দেশের বাইরে আছেন, বিরতিতে আছেন। এখন মাসে ১২ দিন বা ১৩ দিন শুটিং হচ্ছে, আগে ২৬ দিন বা ২৮ দিন পর্যন্ত হত। গত মাসেও লসে ভাড়া দিয়ে চালিয়েছি। গত বছর থেকেই শুটিং কিছুটা কম, নির্বাচন পর্যন্ত এমন চলবে বোঝা যাচ্ছে।”
তবে নাট্যজগতের ক্রমাগত সংকটে আছেন প্রোডাকশন টিম। বাংলাদেশ প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর অপু বলছেন, নাটকের বাজেট কমে আসায় কাজের ধরন বদলেছে।
“আমাদের সদস্যসংখ্যা এখন ৭১৫ জন। অথচ কাজ করছেন মাত্র ৩০ জনের মত।”
আগে যেখানে একটি একক নাটকের শুটিং তিন দিনে হত, এখন তা একদিনে শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে জানালেন অপু।
“বাজেট কমানোর জন্য অনেক নাটক একদিন বা দুইদিনেই শেষ করে ফেলছে। আবার অনেক নাটক হচ্ছে প্যাকেজ সিস্টেমে, অর্থাৎ শিল্পীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন কোন প্রোডাকশনে কাজ করবেন। সব মিলিয়ে আমাদের কথা কেউ ভাবেন না, অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমার অনেক প্রোডাকশন বয় এখন গ্রামে চলে গেছে। কেউ চায়ের দোকান দিচ্ছে, কেউ দিনমজুর করছে।”