Published : 01 Jul 2025, 09:39 AM
বাদ-প্রতিবাদ, ক্ষোভ-হতাশায় ছয় বছর পেরিয়ে গেছে; গুলশানের হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার ছায়া অবলম্বনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি মুক্তি পায়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে সিনেমাটির মুক্তিতে আপত্তি আসে। আবার চলচ্চিত্র আপিল কমিটি থেকে একটা সময়ে মুক্তিতে বাধা নেই বলেও জানানো হয়। এর মধ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে; কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি ‘শনিবার বিকেল’।
ফারুকী যখন আপাদমস্তক একজন পরিচালকের পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন, তখন তিনি আইনের বেড়াজালে বাক্সবন্দি সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ মুক্ত করতে ক্ষণে ক্ষণে সরব ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট, বিভিন্ন আন্দোলন-সভার আয়োজন করে ক্ষোভ আর হতাশার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
তৎকালীন সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঠিক পথে চলতে শিল্পকর্ম নামক বিষয়টির ‘হেডলাইট জ্বালানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন ফারুকী। হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আইনি পথে হাঁটার।
এর মধ্যে সময় গড়িয়েছে। ইতিহাস সৃষ্টি করা এক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার, সেখানে ফারুকী একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে ‘সার্টিফিকেশ বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে। সেই বোর্ড থেকে গেল ১০ মাসে সনদ পেয়েছে ৯৪টি চলচ্চিত্র। কিন্তু ফারুকীর আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেলের’ মুক্তি নিয়ে কোনো তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই।
গুলশান হামলার ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে-এমন আশঙ্কায় ছয় বছর আগে ‘শনিবার বিকেল’ আটকে দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সেন্সর বোর্ড।
এর পরে বিভিন্ন সময়ে কেবল ফারুকী নন, সিনেমাটির মুক্তির দাবিতে একাট্টা হয়েছিলেন দেশের শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা বয়সী মানুষ।
এখন রাজনীতির পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, ফারুকী এখন নিজে সরকারে থাকার পরও ‘শনিবার বিকেল’ কেন আলোর মুখ দেখছে না।

সিনেমার প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী এবং চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বলছেন, শনিবার বিকেলের ছাড়পত্রের জন্য প্রযোজকের দিক থেকে তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।
আর ছাড়পত্র পেতে সিনেমাটি নতুন করে বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ।
২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর মহড়ার পর ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয় ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্য ধারণের কাজ। টানা ১৫ দিন মহড়ায় মাত্র সাত দিনেই শেষ হয় শুটিং। বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান এই তিন দেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘শনিবার বিকেল’।
বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায় এ সিনেমা ভাষান্তর করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইরেশ যাকের এবং দুই বিদেশি অভিনেতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও ফিলিস্তিনের ইয়াদ হুরানি অভিনয় করেছেন।
কী আছে সিনেমায়, মুক্তিতে কেন বাধা?
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে ফারুকী ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি বানিয়েছেন, এমন খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
সিনেমাটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়া হলে ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারি প্রথমবার চলচ্চিত্রটি দেখেছিলেন সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা।
হলি আর্টিজান হামলার মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলে দেশের ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে’ এমন আশঙ্কা থেকে এটির ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে সে সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ।
তবে নির্মাতা ফারুকী বরাবরই বলে আসছিলেন, চলচ্চিত্রটি হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনা নিয়ে নয়, ওই ঘটনার ‘অনুপ্রেরণায়’ নির্মিত একটি কাহিনীচিত্র।
বিভিন্ন সময় সিনেমাটি দেখেছেন এমন ৫ জন সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তারা বলেছেন, সিনেমাটিতে ‘আপত্তিকর কিছুই নেই’।
তাদের কথা, বিগত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আপত্তির কারণেই’ সিনেমাটি ছাড়পত্র দেয়নি সেন্সর বোর্ড।

প্রতিবাদে সরব ছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা
‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবি জানিয়ে ডিরেক্টরস গিল্ডসহ শিল্পীরা নানাভাবে প্রতিবাদে সরব হন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট লিখেও সিনেমাটি মুক্তির দাবি জানান।
২০২২ সালের অগাস্ট মাসে কাঁটাতারের বেড়ার আদলে সেট তৈরি করে সেই মঞ্চে বসে নির্মাতা ও শিল্পীরা ‘বাংলা চলচ্চিত্র বা কনটেন্টে সেন্সরশিপ খড়গ, গল্প বলার স্বাধীনতা চাই’ শিরোনামে মতবিনিময় সভা করেছিলেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সেই সভায় ‘শনিবার বিকেল’কে মুক্ত করার দাবি তোলা হয়েছিল।
তখন নির্মাতা ফারুকী বলেছিলেন, “আমি শুধু বলব, শিল্পকর্ম হল হেডলাইটের মত। হেডলাইট বন্ধ করে যদি ভেবে নেন সামনে কোনো বিপদ নাই, তাহলে ভুল করবেন। বরং হেডলাইট জ্বেলে দেখুন, ঠিক পথে আছেন কি না?”
“কেন মুক্তি পাচ্ছে না শনিবার বিকেল? আমি নিজেও জানি না। সাড়ে তিন বছর ধরে সিনেমাটি আটকে রাখা হয়েছে।”
ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ ঘরোয়া প্রদর্শনীতে দেখেছেন জানিয়ে সেই সভায় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেছিলেন, “সিনেমাটি নাকি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে? কিন্তু আমি মনে করি, এই ছবিটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”
অভিনেতা জাহিদ হাসান ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছিলেন, “আমরা মহড়া করে, খুবই মনোযোগ দিয়ে সিনেমাটি করেছি। এই সিনেমা তো রাশিয়াতে দেখানো হয়েছে। সেখানে দর্শক কেঁদেছে। বুঝলাম না কেন আটকে রাখা হয়েছে সিনেমাটিকে?”
২০২২ সালের নভেম্বরে দেশের ১২৯ জন সংস্কৃতিকর্মী সিনেমাটির মুক্তি চেয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে সিনেমাটি আটকে রেখে ‘অন্যায্য’ আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল ওই বিবৃতিতে।
নাট্যনির্দেশক ও সংগঠক নাসির উদ্দিন ইউসুফের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল।
সিনেমাটির মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন মামুনুর রশীদ, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সারা যাকের, সৈয়দ জামিল আহমেদ, শিমূল ইউসুফ, আফজাল হোসেন, ছটকু আহমেদ, মোরশেদুল ইসলাম, তারিক আনাম খান, ঢালী আল মামুন, শামীম আখতার, মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, আনিসুল হক, শহীদুজ্জামান সেলিম, ফজলুর রহমান বাবু, জাহিদ হাসান, তৌকীর আহমেদ, ক্যাথরিন মাসুদ, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, নুরুল আলম আতিক, ত্রপা মজুমদার, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, কামার আহমেদ সায়মন, রুবাইয়াত হোসেন, শাহিন সুমন, আহসান হাবীব নাসিম, রওনক হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, মেজবাউর রহমান সুমন, জাকিয়া বারী মম, নুসরাত ইমরোজ তিশা, আজমেরী হক বাঁধন, আশুতোষ সুজন, আদনান আল রাজীব, রায়হান রাফীসহ আরো কয়েকজন।

আলোর আভাস দিয়েও অন্ধকারে
বহু প্রতিবাদের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সেন্সর বোর্ডের চলচ্চিত্র আপিল কমিটি সিনেমাটি মুক্তিতে ‘বাধা নেই’ বলে জানিয়েছিল।
খবরটি পেয়ে ওই বছরের ২১ জানুয়ারি ফারুকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “শনিবার বিকেল মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে আপিল বিভাগ। আমরা এখনও চিঠি পাইনি। চিঠির অপেক্ষায় আছি “
সেন্সর বোর্ডের চলচ্চিত্র আপিল কমিটির সদস্য শ্যামল দত্ত ওই সময় বলেছিলেন, “আপিল বোর্ডের শুনানি হয়েছে। সেন্সর বোর্ড যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছে, আমরা তার সাথে একমত হইনি। এখন আর কোনো বাধা নেই। আমরা রিলিজ করে দিয়েছি ছবিটা। খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে।”
তবে শেষ পর্যন্ত অজানা কারণে বাংলাদেশে সিনেমাটি আর আলোর মুখ দেখেনি। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অনুমতি না মিললেও ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লাইভে মুক্তি দেওয়া হয় ‘শনিবার বিকেল’।
এর আগে ওই বছরের ১০ মার্চ ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি পায় উত্তর আমেরিকায়। রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি দেয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান কন্টিনেন্টাল এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড।

বিভিন্ন সময় ফারুকী যা যা বলেছেন
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ফারুকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “তারা ফোনে শুধু একটি কারেকশান চেয়েছিলেন, তা হল সিনেমার শেষে যেন একটি লাইন যুক্ত করা হয়। তা হল–‘সন্ত্রাসীরা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়’। আমরা সেটা দিতে সম্মত হই।”
২০২২ সালের ১৭ অগাস্ট ফারুকী বলেছিলেন, “আমরা আইনের পথে হাঁটব এবং পাশাপাশি সিনেমা বা যে কোনো সৃজনশীল কাজের উপর থেকে সকল প্রকার অন্যায় নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ভয়েস রেইজ করব। ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইজ ফান্ডামেন্টাল অ্যান্ড নন নেগোশিয়েবল।”
হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা নিয়ে ভারতে নির্মিত সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তি পায় ২০২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি।
বলিউড সিনেমা ফারাজের সঙ্গে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দেওয়ার আশা ব্যক্ত করে ফারুকী ওই বছরের ২১ জানুয়ারি ফেইসবুকে লিখেছিলেন, “কেমন অনুভুতি হয় যখন আপনি দেখেন সারা দুনিয়া ছুটে চলেছে আর আপনি একাই থেমে? ভীষণ অপ্রয়োজনীয় লাগে নিজেরে! এই কয় বছর তাই লাগছিলো। বাইরে থেকে কি মনে হয় জানি না, ভেতরে ভেতরে শিল্পীদের মত একাকী মানুষ আর কেউ নাই। গত চারবছর ধরে শনিবার বিকেল নিয়ে যখন স্ট্রাগল করতেছিলাম, তখন নিজেরে অদরকারী ভাবার সাথে যে অনুভূতিটা আমাকে গ্রাস করতো সেটা হলো একাকীত্ব।”
ওই পোস্টে ফারুকী আরো বলেছিলেন, “আমার মতো এই অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যেনো কোনো ফিল্মমেকার না যায়। আমরা বাঁচি আর কয় দিন। কাজের সময় খুব কম। এইভাবে তা অপচয়ের কোনো মানে নাই।”

এখন বাধা কোথায়?
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন পাস করে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেট আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩-এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বোর্ড গঠন করে।
গত ১৯ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, গত ১০ মাসে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে সনদ পেয়েছে ৯৪টি চলচ্চিত্র। বর্তমান চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে সনদ গ্রহণের জন্য কোনো চলচ্চিত্রের আবেদন অপেক্ষমাণ নেই।
‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি ছাড়পত্র পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার ক্ষেত্রে প্রযোজকের দিক থেকে আর যোগাযোগ করা হয়নি।”
এ বিষয়ে জানতে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজকে ফোন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিনেমাটি পরে আর সেন্সরের জন্য জমা দেওয়া হয়নি।”
কেন জমা দেওয়া হয়নি প্রশ্নে তিনি নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন।
সিনেমা মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার তো প্রযোজকের, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ তবুও সংস্কৃতি উপদেষ্টার নাম করেই বলেন, “ফারুকী ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারবেন।”
সিনেমাটি মুক্তিতে ফারুকীর হয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদে সরব ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ। সিনেমাটি এখন কেন মুক্তি পাচ্ছে না, এ বিষয়ে তিনিও কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, “সিনেমাটি এখনো কেন মুক্তি পাচ্ছে না, তা আমার জানা নেই।”
কবে মুক্তি পেতে পারে ‘শনিবার বিকেল’? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি।
আগের খবর
'গল্প বলার স্বাধীনতা' চেয়ে নির্মাতা-শিল্পীদের সভা
হেডলাইট জ্বালিয়ে দেখুন, ঠিক পথে কি না: ফারুকী
'ফারাজ' এর মুক্তিতে 'শনিবার বিকেল' নিয়ে ফারুকীর হতাশা
'শনিবার বিকেল' এখনও আটকে থাকায় ১২৯ সংস্কৃতিকর্মীর উদ্বেগ
'শনিবার বিকেল' নিয়ে আদালতে যাবেন ফারুকী
জাপানের চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত 'শনিবার বিকেল'
সেন্সর বোর্ডে ঝুলেই থাকল 'শনিবার বিকেল'
তবু কেন মুক্তি পাচ্ছে না ফারুকীর 'শনিবার বিকেল'
অবশেষে সেন্সর বোর্ড বাতিল, 'সার্টিফিকেশন' বোর্ড গঠন