১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যমুনা সার কারখানায় হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ, তদন্তে কমিটি

ভারতীয় এক বিশেষজ্ঞ রোববার কারখানা পরিদর্শনের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

যমুনা সার কারখানায় হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ, তদন্তে কমিটি

যমুনা সার কারখানা

জামালপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jan 2023, 07:49 PM

Updated : 23 Jan 2023, 07:49 PM

দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) হঠাৎ ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার এক ভারতীয় বিশেষজ্ঞের কারখানা পরিদর্শনের সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বলে কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) মো. আফাজ উদ্দিন জানান।

এ ঘটনা তদন্তে সোমবার কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করেছে।

জেএফসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসারে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন অপচয়সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ এনজি বুস্টার ক্রয় ও পুনঃস্থাপনের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি 'ইনগার্সল-রেন্ড (ইন্ডিয়া) লিমিটেড'কে অবগত করে। পরে ইনগার্সল-রেন্ড কর্তৃপক্ষ কারখানা পরিদর্শনের জন্য তাদের ডেপুটি ম্যানেজার (সার্ভিস) ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞ মি. তানাজি এস. পন্দেকার-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম পাঠায়।

ওই টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন ইনগার্সল-রেন্ড'র টেরিটরি ম্যানেজার (সার্ভিস) মো. ইমামুল সর্দার এবং মার্কেটিং প্রতিনিধি কসমো মার্কেটিং কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।

Image

যমুনা সার কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কারখানার কর্তৃপক্ষ জানায়, মি. তানাজি এস. পন্দেকার রোববার বিকালে কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় বিকট আওয়াজে অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়; এবং মুহূর্তেই ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (এমটিএস) মো. আফাজ উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এবং কারখানার মেশিনারিজ প্রধান ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে তানাজি এস. পন্দেকার এনজি বুস্টার কমপ্রেসারের বিভিন্ন প্যারামিটার ঘুরে দেখছিলেন।

“এ সময় এমটিএস বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী ওভারটাইম সংশ্লিষ্ট কিছু জটিলতা নিয়ে আমার কাছে আসেন। তাদের সাথে আমি আলাদাভাবে কথা বলায় আমার অনুপস্থিতিতে ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাস অ্যামোনিয়া শিফট ইনচার্জ ফজলুল হককে বিশেষজ্ঞের সাথে থাকার জন্য বলেন। পরিদর্শন চলাকালে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ অ্যামোনিয়া কমপ্রেসার বন্ধ হয়ে যায়। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় পরিদর্শকের সঙ্গে থাকা মো. আফাজ উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান এবং ভূপতি চন্দ্র বিশ্বাসকে সদস্য রাখা হয়েছে।