Published : 30 Aug 2023, 09:18 PM
নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে যুবদলের এক পদবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে; এতে দুই সংবাদকর্মীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন৷
বুধবার বিকেল চারটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে৷
হামলাকারীরা নিজের অনুসারী বলে স্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জোসেফ৷
তিনি বলেন, “যুবদলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সভাপতি পদ প্রত্যাশী ছিলাম আমি। কিন্তু আমাকে পদবঞ্চিত করে কমিটি ঘোষণা করায় উত্তেজিত হয়ে অনুসারী কর্মীরা হামলার ঘটনা ঘটান৷”
তবে বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের দাবি, বিএনপির কর্মসূচি বানচাল করতে সরকারি দলের ইন্ধনে এ হামলা করা হয়েছে৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিলের জন্য মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন৷ বিকেল ৪টার দিকে কিছু নেতা-কর্মী লাঠিসোটা হাতে অতর্কিত হামলা করেন, এরা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত৷ তারা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মারধর করতে থাকেন৷
এসময় সড়কের উপর একটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়৷ পরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে৷ পরে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়৷
এই সময় হামলার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর চড়াও হন হামলাকারীরা৷ তাদের মারধরের শিকার হন সময় টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন আরিফ হোসেন এবং একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জামিল হোসেন উল্লাস৷
আরিফ হোসেন বলেন, ‘হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলেই তারা আমাদের লাঠিসোটা ও বাঁশ দিয়ে পেটাতে থাকে৷’
বিএনপির কয়েকজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগরের আলাদা চারটি আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি৷ এতে পদবঞ্চিত অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ ছিলেন৷
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা৷ এ সময় সরকারি দল আওয়ামী লীগের ইন্ধনে কিছু দালাল নেতা-কর্মী এ হামলা চালায়৷ যদিও পরবর্তীতে আমরা মিছিল করেছি৷
“যারা পদ না পেয়ে এমনটা করলেন তারা তো গত কয়েক বছরে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না৷ অথচ পদ প্রত্যাশা করছিলেন৷”
সদর মডেল থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, “বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ মারামারির ঘটনা ঘটে৷ এ সময় সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি৷ কয়েকটি যানবাহনও তারা ভাঙচুর করেন৷ এ ঘটনায় কাউকে এখনও আটক করা হয়নি।”
তবে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।