Published : 09 Jul 2026, 06:21 PM
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলকে ‘বিদেশি’ কোচ শিরোপা জেতাতে পারেননি আজও। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এই পরীক্ষায় টিকে আছেন দুজন, ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টমাস টুখেল ও বেলজিয়ামের ফরাসি কোচ রুদি গাহসিয়া। দেখার অপেক্ষা, ইতিহাস বদলে দুজনের কেউ পৌঁছাতে পারেন কিনা সাফল্যের চূড়ায়।
এবারের আসরে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে, ২৭টির ছিল ভিন্ন দেশি কোচ। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় নয়টি বেশি। কোয়ার্টার-ফাইনালের আগেই ঝরে গেছেন ২৫ জন। টিকে আছেন কেবল দুজন- টুখেল ও গাহসিয়া।
গত বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলা ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ছিল দেশি কোচ। লুসাইলের ফাইনালে ফ্রান্সের দিদিয়ে দেশোঁকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন লিওনেল স্কালোনি।
সবশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে, ভিন্ন দেশি কোচের উপস্থিতি ছিল, ১৯৭৮ সালের আসরে। সেবার অস্ট্রিয়ান কোচ এর্নস্ট হ্যাপেলের অধীনে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস, কিন্তু হেরেছিল সেসার লুইস মনেত্তির আর্জেন্টিনার কাছে।
১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড এবার জার্মান টুখেলের হাত ধরে এসেছে শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে। অবশ্য, এর আগে দুই ইতালিয়ান সভেন-গোরান এরিকসন ও ফাবিও কাপেলো ‘থ্রি লায়ন্স’দের এনে দিতে পারেননি সাফল্য।
এবার যেমন, উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। এক বছর আগে এই ইতালিয়ান কোচের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। অবশ্য, ক্লাব ক্যারিয়ারে ভুরিভুরি শিরোপা জেতা আনচেলত্তির উপর আস্থা রেখেছে ব্রাজিল। পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের দায়িত্বে থাকছেন তিনি।
ইংল্যান্ড দলের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার জন্য অবশ্য টুখেলের হাতে দায়িত্ব দেয়নি এফএ। গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে দুটি ইউরোর ফাইনাল এবং একবার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল খেলা ইংল্যান্ডকে আরেকধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই জার্মান কোচকে এনেছে তারা। প্রত্যাশার প্রতিদানও তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন কিছুটা।
ডিআর কঙ্গো ও মেক্সিকো বাধা ইংল্যান্ড কষ্টেই পার করেছে। এবার তাদের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। আর্লিং হলান্ড নামের এক গোলমেশিনের চওড়া কাঁধে সওয়ার হয়ে যারা, শেষ ষোলোয় বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছিল রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। টুখেলের সামনে তাই অপেক্ষা করছে অগ্নিপরীক্ষা।
বেলজিয়ামের ডাগআউটে ভিনদেশি কোচ বিরল নয় মোটেও। গাহসিয়ার আগে দলটির দায়িত্বে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ রবের্তো মার্তিনেস। তার কোচিংয়ে ২০১৮ সালে তৃতীয় হয়েছিল তারা। কিন্তু মার্তিনেস এবার পর্তুগালকে টেনে তুলতে পারেননি। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নেয় পর্তুগিজরা।
সেই স্পেন এবার শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম কোচ গাহসিয়ার প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অবশ্য আত্মবিশ্বাসে ফুটছে বেলজিয়াম। তবে, গাহসিয়া এখন আসল পরীক্ষার সামনে। টুখেলর মতোই।
ভিনদেশি কোচরা কেন বিশ্বকাপে সফল হতে পারেন না, তার কারণগুলোর একটা জানালেন সিমন কুপার। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফিভার’, ‘সকারনোমিকস’ ও ‘ফুটবল এগেইনস্ট দ্য এনিমি’ বইয়ের লেখক ও ধারাভাষ্যকার কুপার মনে করেন, গর্বের অনুভূতিটা ঠিক ভিনদেশিরা অনুভব করেন না।
“আমি মনে করি, ভিনদেশিদের না পারার আংশিক কারণ জাতীয় গর্ব। বিশ্বকাপে আপনি কেবল যতগুলো সম্ভব ম্যাচই জিততে চাইবেন না, নিজের দেশের ফুটবল সংস্কৃতিও তুলে ধরতে চাইবেন এবং এ বিষয়টি কোচদের বেলায়ও প্রয়োজ্য। মানুষের মধ্যে শক্ত বিশ্বাস আছে যে, ভিনদেশিকে কোচ নিয়োগ দেওয়া প্রতারণা এবং এটা কার্যকরীও নয়।”