ময়মনসিংহে ২০০ লেভেল ক্রসিংয়ের ১০৫টি অরক্ষিত

চলতি বছর ময়মনসিংহে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩১ জনের মৃত্যু হয়। এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪২।

ইলিয়াস আহমেদময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 09:11 AM
Updated : 2 August 2022, 09:11 AM

ময়মনসিংহে চলতি বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণ গেছে। যাত্রী ও পথচারীদের ‘অসচেতনতা’ ও গেটম্যান ‘সংকটের’ কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

দুর্ঘটনা রোধে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং সংরক্ষণের পাশাপাশি লোকবল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনগনকে সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ময়মনসিংহের সহকারী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার জানান, রেলওয়ের ময়মনসিংহ জোন হচ্ছে-ময়মনসিংহ থেকে শ্রীপুর, বিদ্যাগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, আঠারোবাড়ি ও জারিয়া জাঞ্জাইল পর্যন্ত। এই এলাকার মধ্যে ২০০টি লেভেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি অরক্ষিত।

বাকি ৯৫টির মধ্যে ৭০টিতে তিনজন করে গেটম্যান রয়েছে। ২০টি লেভেল ক্রসিংয়ে দুপাশে গেট ব্যারিয়ার আছে। বাকিগুলো এক পাশে রয়েছে।

নারায়ণ বলেন, “এ অবস্থায় ট্রেন আসলে একটু ধৈর্য না ধরে পারাপারের চেষ্টা করলে দুর্ঘটনার শঙ্ক থাকে। অনেক সময় ট্রেন কাছে চলে এলেও ঝুঁকি নিয়ে লোকজনকে পারাপার করতে দেখা যায়। এ সব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে গেটম্যানরাও দায়ী।”

এদিকে চলতি বছরে ময়মনসিংহের অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার এসআই মির্জা মো. মুক্তা জানান।

এ রেল পুলিশ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহে রেল দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ৪২ জন এবং ২০২০ সালে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ৭৮টি।

নগরীর পাটগুদাম ব্রিজমোড় লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আতিকুল হক বলেন, “গত তিন বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে একটি গেট ব্যারিয়ার অকেজো হয়ে পড়ে আছে। একটি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

“ট্রেন সন্নিকটে আসলেও একটি ব্যারিয়ার তুলে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করে। তাদের কিছু বললেও সমস্যা। আর দুটি ব্যারিয়ার থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রেন নির্বিঘ্নে চলতে পারতো।”

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আতিকুর রহমান বলেন, “তিনজন ডিউটিতে থাকার কথা থাকলেও এই লেভেল ক্রসিং এ দুইজনকে দিয়ে ডিউটি করানো হচ্ছে। আমরা দুইজন ১০ ঘণ্টা করে ডিউটি করি।”

নগরীর মিন্টু কলেজ লেভেল ক্রসিং পার হয়েই প্রতিদিন গন্তব্যে যেতে হয় নাটক ঘরলেন এলাকার আবু আসলামকে।

ক্রসিং এ ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ নগরী এমনেতেই যানজটের নগরী। ট্রেন আসার অন্তত ১৫ মিনিট আগে গেট ব্যারিয়ার ফেলা হয়।

“এতে আমরা সাধারণ মানুষ খুব অতিষ্ঠ হয়ে পড়ি। পরে ঝুঁকি নিয়ে রেড জোন দিয়ে চলাচল করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক মিনিট আগে গেট ব্যারিয়ার ফেললে কারো সমস্যা হয় না।”

গত ২৫ জুলাই রেললাইন হেঁটে পার হওয়ার সময় মাঈন উদ্দিন নামে একজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাটক ঘরলেনের রাসেল মিয়া।

তিনি বলেন, “রেল পথের দুর্ঘটনা ঠেকাতে আমদেরও সচেতন হতে হবে। না হলে শুধু কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ হবে না। তবে রেল কর্তৃপক্ষের উচিত, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং সংরক্ষণের পাশাপাশি লোকবল বাড়ানো।”

এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে বলে ময়মনসিংহের রেলওয়ে থানার এসআই মির্জার মো. মুক্তার দাবি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, “ময়মনসিংহে মোট লেভেল ক্রসিংয়ের বেশির ভাগ অরক্ষিত, এটা দুঃখজনক। প্রায়ই শোনা যায় ট্রেনে কাটা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।”

“চলতি বছরে রেলপথে ৩১ জনের প্রাণহানির পরও আমরা কেন সচেতন হচ্ছি না।?” প্রশ্ন ইউসুফের।

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো নিয়ে পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ বলেন, পর্যাপ্ত গেটম্যান ও দুপাশে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন। তবে দুর্ঘটনা রোধে রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক