পিরোজপুরে প্রসূতিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার বাদী বলেন, “আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় রোগীর চিকিৎসা করেও ব্যর্থ হয়েছি।”
পিরোজপুরে প্রসূতিকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী আবু সালেহ ওমান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম গোলাম রসুলের আদালতে মামলাটি করেন ওই প্রসূতি স্বামী মো. হযরত আলী।
মামলার আসামি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল মাওয়া।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
আইনজীবী আবু সালেহ ওমান জানান, ভুক্তভোগী প্রসূতি ফতেমা বেগম (২৫) পিরোজপুর পৌরসভা এলাকার পশ্চিম শিকারপুর এলাকার দিনমজুর হযরত আলীর স্ত্রী।
মামলার নথির বরাত দিয়ে আইনজীবী বলেন, ওই প্রসূতি সন্তান জন্মদানের আগেও গাইনি চিকিৎসক জান্নাতুল মাওয়ার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পিরোজপুরের মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে ওই চিকিৎসক প্রসূতি ফাতেমার অস্ত্রোপচার করেন। পরে তার (চিকিৎসকের) দেওয়া ওষুধ সেবনে ফাতেমার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গিয়ে ও পচন ধরে। এ ছাড়া চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় কয়েকবার ওই চিকিৎসকের কাছে গেলেও তিনি কোনো রকম সেবা না দিয়ে রোগীকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে বলেন।
জান্নাতুল মাওয়ার অপচিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর জীবন হুমকিতে আছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
বাদী হযরত আলীর অভিযোগ, “ওই ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর অবস্থা মৃতপ্রায়। তার মুখমণ্ডলে পচন ধরেছে, চোখের পাতা ছিদ্র হয়ে গেছে। রোগীকে শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকায় রেফার্ড করেছেন। আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও আজ ব্যর্থ। ফাতেমা বেগম এখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন।”
চিকিৎসকের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এদিকে, চিকিৎসক জান্নাতুল মাওয়ার দাবি, তার চিকিৎসায় কোনো ভুল ছিল না। তবে রোগীর ওষুধের সব কাগজপত্র দেখার পর বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান।
