১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে বিএনপির কমিটিতে শিক্ষক-ব্যাংকারসহ ৬ সরকারি চাকরিজীবী

জেলা বিএনপি তাদের ১৫ দিনের মধ্যে চাকরি নাকি দলীয় পদ- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেঁধে দিয়েছে।

কুড়িগ্রামে বিএনপির কমিটিতে শিক্ষক-ব্যাংকারসহ ৬ সরকারি চাকরিজীবী

(বা থেকে) ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসু এবং সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 11:16 PM

Updated : 15 Oct 2026, 11:16 PM

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষক, সরকারি কলেজের এক শিক্ষক ও এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে।

এ নিয়ে দলের ভেতরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপি তাদের ১৫ দিনের মধ্যে চাকরি করবেন, নাকি দলীয় পদে থাকবেন- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেঁধে দিয়েছে।

বুধবার কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে- রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে।

এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন- পশ্চিম কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক শাহিনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তহিদুল হক।

কমিটি ঘোষণার পর দলের একাংশের নেতাকর্মীরা সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কমিটি নিয়ে আপত্তি জানান।

কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান বলেন, দুই বছর পর কমিটি দেওয়া হলেও এতে ছয় সরকারি চাকরিজীবীকে রাখা হয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়া চাকরিবিধির লঙ্ঘন। শিক্ষকরা পদত্যাগ না করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিটির আহ্বায়ক ও রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসু বলেন, “আমি ও আমার সদস্যসচিব চাকরি ছেড়ে দেবো। জেলা বিএনপির বেঁধে দেওয়া ১৫ দিন সময়সীমার মধ্যে আমরা সরকারি বিধিবিধান মেনে দল করবো। আপনারা চিন্তা করবেন না। খুব শিগগির চাকরিতে ইস্তফা দেওয়ার কাগজ পেয়ে যাবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী অন্য চারজন কী করবেন সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।”

সদস্যসচিব ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুল বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবো।”

সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় আছেন। সুস্থ হয়ে ফিরে কমিটিতে তাকে কী পদ দেওয়া হয়েছে, তা জেনে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা তহিদুল হক কমিটিতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

অগ্রণী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আহসান হাবিব সরকার বলেন, বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক দলে যুক্ত থাকতে পারেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দলের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের ১৫ দিনের মধ্যে চাকরি করবেন, নাকি দলীয় পদে থাকবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।