১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রীমঙ্গলে ৯ দিনে দুর্গার ৯ রূপের পূজা

দুর্গাপূজা শুরুর আগেই শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে শুরু হয়েছে নবদুর্গার পূজা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 06:35 PM

Updated : 12 Oct 2026, 06:35 PM

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দুর্গাপূজা শুরুর আগেই একটি মন্দিরে শুরু হয়েছে দুর্গার নয়টি রূপের পূজা, যা নবদুর্গার পূজা নামে পরিচিত।

উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতি চা বাগানের শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে টানা নয় দিন ধরে দেবীর নয়টি রূপের এ পূজা করা হয় বলে জানান মন্দিরের পুরোহিত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপংকর ভট্টাচার্য।

রোববার শুরু হওয়া এ পূজার প্রথম দিন দেবীর শৈলপুত্রী রূপের পূজা হয়। সোমবার পূজা হয় দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণীর।

এরপর একে একে চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপে দেবীর পূজা হবে। দশমীর দিন অন্য প্রতিমার সঙ্গে নবদুর্গার প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হবে।

দীপংকর ভট্টাচার্য বলেন, বৈদিক ও পৌরাণিক রীতি মেনে এখানে নয় দিন ধরে দেবীর নয়টি রূপের পূজা হয়। প্রতিটি রূপের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, দুর্গাপূজার আগে এভাবে নবদুর্গার পূজার আয়োজন দেশের আর কোথাও হয় না। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ আয়োজন এবার ১৬তম বছরে পড়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এ মন্দিরে আসেন।

মন্দিরে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি নবদুর্গার পূজার প্রথম দিন এখানে আসেন। দেবীকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। তার ভাষায়, “সব জায়গায় দুর্গাপূজা শুরুর আগেই এখানে এসে পূজার আনন্দ পাওয়া যায়।”

নবদুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি পরিমল ভৌমিক বলেন, মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরটি অনেক পুরোনো। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী মঙ্গলচণ্ডী জাগ্রত। এ কারণে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজন ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়, মঙ্গলচণ্ডী দেবীর নাম থেকেই শ্রীমঙ্গল নামের উৎপত্তি।

মন্দিরের আরেক পুরোহিত দয়াময় ভট্টাচার্য বলেন, মানুষের ভেতরের অশুভ শক্তি দূর করা ও বিশ্বশান্তি কামনায় দেবীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। দেবীর নয়টি রূপের প্রতিটি আলাদা শক্তি ও গুণের প্রতীক।

এবার পূজার পঞ্চম দিনের আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছে সনাতনী-৯৫ ব্যাচ।

সংগঠনটির সদস্য অমৃকা বৈদ্য ও চয়ন চক্রবর্তী বলেন, পূজার খরচ ভাগ করে নিতে তারা এক দিনের সব ব্যয় বহন করছেন। ওই দিন সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করবেন।

পূজায় অংশ নেওয়া ভক্তরা দেবীর কাছে শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করছেন।