সিলেটে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

কাউন্সিলর বলেন, “বিয়ষটি মেয়র সাহেব বসে শেষ করে দেবেন। আমি কোনো ঝামেলা করিনি।”

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 05:02 PM
Updated : 1 April 2024, 05:02 PM

বিদ্যুৎ প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে সিলেটে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার সকালে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান। 

আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান হোসেন, বরইকান্দি এলাকার কাজী বায়েজিদ আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন রওজা।

রোববার রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি এলাকার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টি ও ঝড়-তুফানে সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ লাইন সচল করতে সংশ্লিষ্টরা সবাই নিয়ন্ত্রণ কক্ষে হাজির হন।

রাত দেড়টার দিকে কাউন্সিলর রায়হান হোসেনসহ আরও দুজন বিনা অনুমতিতে কেপিআইভুক্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করে দুটি চালু ১১ কেভি ফিডার (১১ কেভি কদমতলী ও ১১ কেভি স্টেশন ফিডার) বন্ধ করতে এবং ১১ কেভি বরইকান্দি ফিডার চালু করতে চাপ দিতে থাকেন।

এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা তাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করেন, এভাবে সমস্যা কবলিত লাইন চালু করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু কাউন্সিলর ও তার সঙ্গীরা লাইন চালুর জন্য সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এরই একপর্যায়ে আসামিরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, “কাউন্সিলর সমস্যার কারণে বন্ধ হওয়া ১১ কেভি বরইকান্দি ফিডার জোরপূর্বক চালু করতে চাইছিলেন। আমি তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে আমার ওপর আক্রমণ করেন। আমাকে জামার কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন।

“এরপর তাদের কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় অন্য একটি লাইনের সমস্যা সংস্কার করার জন্য আমার আওতাধীন লাইনটি বন্ধ করা হয়। তখন অফিসসহ আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

সহকারী প্রকৌশলী বলেন, “কিন্তু তারা মনে করেন, আমি ইচ্ছা করে লাইন বন্ধ করেছি। এজন্য তারা দ্বিতীয়বার এসে আবার আমাকে গুম করে ফেলাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।”

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর রায়হান হোসেন। তিনি বলেন, “আমার পাড়ার কয়েকজন ছেলের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়েছে শুনে আমি সেখানে যাই।”

“এ বিয়ষটি মেয়র সাহেব বসে শেষ করে দেবেন। আমি কোনো ঝামেলা করিনি”, বলেন কাউন্সিলর।