সাফজয়ী ফুটবলার স্বপ্নার নতুন জীবন শুরু

সাফজয়ী স্বপ্না প্রবাসী সুবহে সাদিক মুন্নাকে বিয়ে করেছেন।

রংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Jan 2024, 04:33 PM
Updated : 13 Jan 2024, 04:33 PM

সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্য সিরাত জাহান স্বপ্না বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার তিনি পারিবারিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী করেছেন আগে থেকে পরিচিত প্রবাসী সুবেহ সাদিক মুন্নাকে।

রংপুর মহানগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী ইউনিয়নের পালিচড়া জয়রাম গ্রামের বাড়িতে দুজনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বর সুবেহ সাদিক মুন্না ব্রাক্ষণবাড়িয়ার পায়রা চর গ্রামের সরকার বাড়ির ছেলে। তিনি পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন।

বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্য ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বেশ ধুমধাম করেই বিয়ের আয়োজন করে স্বপ্নার পরিবার।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালকে হারিয়ে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেই টুর্নামেন্টে স্বপ্না চার গোল করে বাংলাদেশের জয়ে ভূমিকা রাখেন।

গত বছর মে মাসে হঠাৎ ছুটি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্যাম্প ছাড়েন স্বপ্না। এরপর আর জাতীয় দলের এই তারকাকে মাঠে দেখা যায়নি।

বিয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় স্বপ্না বলেন, “আমাদের সম্পর্ক চার বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু উনি (মুন্না) আমাকে চিনতেন আরও আগে থেকেই। আমার খেলা সব সময় দেখতেন। আমার সম্পর্কে সব কিছুই জানতেন। কিন্তু আমি তাকে চিনতাম না।

“তার সঙ্গে কথা হওয়ার পরই চিনেছি। তিনি ক্রীড়ামনস্ক মানুষ। তাই পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে করেছি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য”, বলেন স্বপ্না।

বর সুবেহ সাদিক মুন্না বলেন, “আমি সৌভাগ্যবান। কারণ স্বপ্না শুধু রংপুর কিংবা উত্তরবঙ্গের গর্ব নয়, স্বপ্না আমাদের বাংলাদেশের গর্ব। তাকে সম্মানের সঙ্গে রাখব ইনশাআল্লাহ।”

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর বাফুফে ক্যাম্প ছেড়ে গতবছর ২৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলকে বিদায় জানান স্বপ্না।

স্বপ্নার বাবা মোকছার আলী একসময় বর্গাচাষি ছিলেন; মা ধান ভানার কাজ করতেন। অভাবে পরিবারেই তিন বোনের বড় হয়ে ওঠা। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে আগেই।

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১১ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে স্বপ্নার প্রতিভার প্রকাশ। ২০১৩ সালে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পান।

২০১৪ সালে ঢাকায় খেলেন আঞ্চলিক বাছাইপর্ব। ২০১৫ সালে নেপালে এএফসি অনুর্ধ্ব–১৪ ফুটবলের আঞ্চলিক পর্বে বাংলাদেশ শিরোপা জিতে। স্বপ্না ছিলেন সেই দলের সদস্য।

অনুর্ধ্ব–১৬ এএফসি বাছাইয়েও খেলেছেন ২০১৬ সালে। সে বছরই শিলং–গুয়াহাটি এসএ গেমসে জাতীয় নারী দলের জার্সি গায়ে উঠে স্বপ্নার। সেই থেকে তিনি টানা জাতীয় দলে খেলেছেন।

২০১৭ সালে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বপ্না পাঁচ গোল করেছিলেন। ২০১৮ সালে অনুর্ধ্ব–১৮ নারী সাফে আট গোল করেন তিনি।