জাগ দেওয়ার পানি নেই, ‘লোকসানের মুখে’ ফরিদপুরের পাটচাষি

বৃষ্টি না হওয়ায় ভূগর্ভের পানি তুলে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা, যা সহজসাধ্য নয়।

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 01:44 PM
Updated : 1 August 2022, 01:44 PM

বৃষ্টির অভাবে ডোবা-নালায় পানি না থাকায় শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভের পানি তুলে পাট জাগ দিচ্ছেন ফরিদপুরের চাষিরা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে, চাষিরা গ্রামীণ রাস্তার পাশে ডোবায় বা খালের দুই মুখে বাঁধ দিয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভের পানি তুলে পাট জাগ দিচ্ছেন।

চাঁদা তুলে যৌথভাবে কাজ চালাচ্ছেন তারা, যা সহজসাধ্য নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হজরত আলী বলেন, “কৃষক বিপদে আছেন। বৃষ্টি নেই। নিচু জমিতে পানি নেই। ক্ষেতে পাট মরে যাচ্ছে।

“যে জমিতে দুই-তিন ইঞ্চি পানি আছে সেখানে পাট জাগ দেওয়ায় গরমে তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাট নিয়ে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক।”

এবার ফরিদপুরে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু বাদ সেধেছে পানি।

পানির অভাবে সময়মত পাট জাগ দিতে পারছেন না চাষিরা। এ কারণে পাটে ভাল রং না পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান পাটচাষিরা।

নগরকান্দা উপজেলার উত্তর গোপীনাথপুরের খোকন শেখ বলেন, এই সময়ে কখনও এমন পানি সংকট দেখেননি তিনি।

“প্রতিবছর উৎপাদন কমবেশি হলেও পাটের রং ঠিক থেকেছে সময়মত পানি পাওয়ায়। কিন্তু এবার আবাদ ভাল হলেও পাট জাগ দেওয়ার পানি পাচ্ছি না। বৃষ্টির দেখা নেই। ক্ষেতে পাট রেখে দেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়ে গ্রামের খালের দুই মুখ বেধে পাঁচ-ছয়টি শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। কিন্তু এতে দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। খরচ বেশি হচ্ছে। পাটের রং খারাপ হতে পারে।”

রিবন রেটিং পদ্ধতি

পানির ব্যবহার কমাতে সরকার ‘রিবন রেটিং পদ্ধতি’ চালু করেছিল। এ পদ্ধতিতে কাটার পর পাটের ছাল আলাদা করে পানিতে রাখা হয়। এতে পানি কম লাগে।

কৃষক এ পদ্ধতি গ্রহণ করেনি বলে জানান ফরিদপুর পাট অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মরিয়ম বেগম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক