সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

আমদানি নির্ভরতার নীতি থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সার উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি।

গাইবান্ধা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 03:00 PM
Updated : 3 August 2022, 03:00 PM

ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাইবান্ধা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এবং সাম্যবাদী আন্দোলন।

একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি দারিয়াপুর অঞ্চল কমিটিও।

বুধবার সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এবং সাম্যবাদী আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে সমাবেশ করে।

বক্তারা ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে সারের চাহিদা পূরণে তিন বছর ধরে বিদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার সার আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ অর্ধেক টাকা খরচ করে ওই পরিমাণ সার দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব।

তারা বলেন, দুই দশক আগেও স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশ থেকে সার রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু সার কারখানাগুলো পুরানো হওয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটিও বাড়তে থাকে। এই যান্ত্রিক ত্রুটি এবং গ্যাস স্বল্পতার কারণে বেশিরভাগ সার কারখানা বছরে চার থেকে সাত মাস বন্ধ থাকে।

বক্তারা আরও বলেন, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা একদিন বন্ধ থাকলে এক হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন কম হয়। এই পরিমাণ সার উৎপাদনে জ্বালানি ও কাঁচামালের খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ সব ধরনের খরচ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যয় হয় মাত্র দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই পরিমাণ সার আমদানিতে উৎপাদনের খরচের চেয়ে দ্বিগুণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

একইভাবে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল) একদিন বন্ধ থাকলে এক হাজার ৬০০ টন সার কম উৎপাদন হয়, যা আমদানিতে ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। অথচও এই পরিমাণ সার দেশে উৎপাদনে ব্যয় হয় দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে আমদানিতে প্রতিবছর সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা নিট লোকসান হয় বলে সমাবেশে দাবি করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের কৃষক এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। দেশে খাদ্য নিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়বে।

নেতারা অবিলম্বে সরকারের আমদানিনির্ভর লুটপাট নীতি থেকে সরে এসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু, সাম্যবাদী আন্দোলন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সমন্বয়ক বীরেন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সংগঠক পারুল বেগম, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা আহ্বায়ক শামিম আরা মিনা প্রমুখ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক