Published : 13 Dec 2022, 12:09 AM
চলতি বছরের নভেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৬৩৫ জন যক্ষা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান।
আক্রান্ত রোগীদের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথা জানান।
সিভিল সার্জনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬৩৮ জন, বন্দরে ১২২ জন, সোনারগাঁয়ে ২৩৪ জন, আড়াইহাজারে ১৮৩ জন, রূপগঞ্জে ২৯৪ জন যক্ষার জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে ৩১ জন যক্ষার তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছেন।
নাটাবের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে সভায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এরিয়া সুপারভাইজার মাসুমা আক্তার, ফিল্ড অর্গানাইজার শাহ্ আলম, নাটাবের আজীবন সদস্য বিল্লাল হোসেন রবিনও উপস্থিত ছিলেন।
যক্ষা রোগী সাধারণ তিন ধরনের হয়ে থাকে বলে সভায় জানান ডা. মুশিউর রহমান।
তিনি বলেন, কারও ফুসফুসে সরাসরি জীবাণু পাওয়া যায়, কারও আবার জীবাণু শনাক্ত হয় না কিন্তু তার যক্ষা রোগের সবধরনের উপসর্গ থাকে। তৃতীয়ত যক্ষা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ওষুধ প্রতিরোধী পরিস্থিতিতে চলে যান; যাকে মেডিকেল টার্ম অনুযায়ী ‘এমডিআর’ বলা হয়।
যক্ষা রোগীর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী উল্লেখ করে সিভিল সার্জন বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি হওয়ায় আমরা রোগীদের ডিওটি বা ডটস ও টিপিটি’র মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। ডটস হচ্ছে যক্ষা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বল্পকালীন চিকিৎসা কৌশল, যার মধ্যেমে রোগী প্রতিদিন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিকে ওষুধ সেবন করে থাকে। ডটস’র মাধ্যমে রোগীর সঠিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, এছাড়া যক্ষা রোগীদের মাধ্যমে অন্য কেউ যাতে আক্রান্ত না হন সেজন্য যক্ষা প্রতিরোধ চিকিৎসা (টিপিটি) প্রদান করা হয়। যক্ষা রোগীদের সাথে একই ছাদের নিচে থাকা শিশু ও প্রবীণদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন এইচআইভি পজিটিভ, ডায়াবেটিক ও কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও মাদকসেবী। তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মশিউর রহমান বলেন, যে রোগীরা নিয়মিত, পরিমিত, ক্রমাগত ও ভুল ওষুধ সেবন করেন তারা এমডিআর যক্ষায় আক্রান্ত হন। এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা আরও দীর্ঘমেয়াদী হয়। কারণ এ রোগের স্বাভাবিক ওষুধ তাদের ক্ষেত্রে কাজ করে না।
নারায়ণগঞ্জে ৩১ জন এমডিআর পর্যায়ের রোগী আছেন বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, সারা বাংলাদেশে প্রতি বর্গফুটে ১ হাজার ২৭০ জন লোক বসবাস করে। পক্ষান্তরে নারায়ণগঞ্জে এ সংখ্যা ৫ হাজার ৭৮০ জন। জেলায় বৈধ-অবৈধ সড়ে ৫ হাজার ফার্মেসী আছে। মুদির দোকানেও ওষুধ বিক্রি হয়। কম জনবল নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
“মুখে বললেই হবে না, বাস্তবতা অনেক কঠিন। এছাড়া আমাদের কোনো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই। অভিযান চালাতে হলে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতাসহ অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটাও এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা।”