মারধরে আহত ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীর মৃত্যু, সাভারে সংঘর্ষ-ভাঙচুর

ওসি বলেন, “অন্তর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

সাভার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Nov 2023, 06:06 PM
Updated : 3 Nov 2023, 06:06 PM

স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাভারের বেসরকারি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসিবুল হাসান অন্তর মারা গেছেন। এর জেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেশকিছু দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে মারা যান। এর জের ধরে শনিবার বিকালে সাভারের খাগানে আকরান বাজারে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

হাসিবুল হাসান অন্তর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে।

সাভার মডেল থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, “অন্তর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার জেলা পুলিশ সুপার এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন। এখন ক্যাম্পাসের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।”

শিক্ষার্থীরা জানায়, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৭ অক্টোবর স্থানীয় কয়েক যুবক মিলে অন্তরকে বিরুলিয়া ব্রিজের নীচে মারধর করে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ওই যুবকরাই তাকে খাগান বাজারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা অন্তরকে প্রথমে ড্যাফোডিল কেয়ারে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারে তাকে ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বৃহস্পতিবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিকালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা স্থানীয়দের হত্যার জন্য দায়ী করে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বিরুলিয়া ও আশুলিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

পরে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রান এলাকায় হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (শিক্ষার্থী বিভাগ) সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, “কয়েকদিন আগে অন্তরের সঙ্গে স্থানীয়দের কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। পরে তাকে মরধর করে আহত করা হয়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।”