রূপগঞ্জে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ১০

রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 07:54 PM
Updated : 10 Feb 2024, 07:54 PM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওরা এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, কায়েতপাড়া এলাকার জমির দখল নিয়ে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশাররফ হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

শনিবার বিকেলে একটি জমিতে সাইনবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে উভয়পক্ষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন- জাকির হোসেন (৫০), মো. জুম্মন (১১) আলআমিন (২৭), আবুল হোসেন (৪২) ও মোসা. মারুফা (১৮)। তারা এলাকায় মোশাররফ হোসেনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগলেও তারা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ অপর পাঁচজন হলেন- মো. রুবেল (৩০), মো. নাইম (২২), নূর হোসেন (২৪), মো. ফয়সাল (৩৫) ও মো. হানিফ (২৪)। তারা এলাকায় রফিকুল ইসলামের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “একটি জমি দখলে নিতে মোশারফের লোকজন বিকালে সাইনবোর্ড লাগানোর সময় স্থানীয় লোকজন ওই জমির মালিককে সাথে নিয়ে বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোশাররফের লোকজন গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়।”

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ‘প্রস্তুতি চলছে’ বলে মিজানুরের ভাষ্য।

ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে মোশাররফ হোসেনের একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, “উভয়পক্ষের মধ্যে পুরোনো দ্বন্দ্ব ছিল। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। ওই দ্বন্দ্বের জেরে আজও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষ। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

তবে রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।