০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নওগাঁয় জুয়ায় হেরে ব্যাংকের ‘৩৪ লাখ টাকা’ ছিনতাই, কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৬

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 08:29 PM

Updated : 09 Oct 2026, 09:05 PM

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ‘৩৪ লাখ টাকা’ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় সাত থেকে আট লাখ টাকা হারান ওই তিন কর্মী। সেই ঘাটতি পূরণে শাখা মালিকের ‘৩৪ লাখ টাকা’ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাণীনগর উপজেলার স্বপন (২৮), হাসান আলী (২৫), এজেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা সুজন (২৭), আবু তালেব (২২), অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২) ও মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার বলেন, তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু মোটরসাইকেলে করে ‘৩৪ লাখ টাকা’ নিয়ে আবাদপুকুর বাজার শাখায় যাচ্ছিলেন। পথে রাণীনগরের পারইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাদের পথ আটকান। পরে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ওই রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থেকে স্বপন ও হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলছিলেন। এতে তারা সাত থেকে আট লাখ টাকা হারান। পরে স্বপন ও হাসানসহ কয়েকজনের সঙ্গে মিলে প্রায় এক মাস ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাসেল বাবু অন্যদের কাছে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছিলেন। নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছালে স্বপন ও হাসানসহ অন্যরা নাজমুলকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। নাজমুল প্রকৃত ভুক্তভোগী হলেও রাসেল বাবু নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, ছিনতাই হওয়া ‘৩৪ লাখ টাকার’ মধ্যে ব্যাংকের ওই তিন কর্মীর ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। বাকি টাকা অন্যদের দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে স্বপন ও হাসানকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।