২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা

শিবগঞ্জের উথলি এলাকায় পৌঁছালে ৪-৫ জন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসের গতিরোধ করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 10:54 PM

Updated : 28 Oct 2026, 10:54 PM

বগুড়ার শিবগঞ্জে ১০২ ভরি স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির নগদ ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- দিনাজপুরের হাকিমপুরের মো. সাদিকুল ইসলাম (২৮) ও মো. আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাটের পাঁচবিবির মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও মো. আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

পুলিশ জানায়, ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে বগুড়া শহরের গালাপট্টির শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খায়রুল ইসলাম ১০২ ভরি ১২ আনা ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠানোর জন্য তার ভাই বাপ্পি হোসেনকে দেন। বাপ্পি বাসে করে রওনা হওয়ার পর দুপুরে শিবগঞ্জের উথলি এলাকায় পৌঁছালে ৪-৫ জন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসের গতিরোধ করে।

তারা বাপ্পিকে জোরপূর্বক নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে স্বর্ণের বারগুলো ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়।

স্বর্ণের মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, পূজা উপলক্ষে জয়পুরহাটের মডার্ন জুয়েলার্সের চাহিদা মোতাবেক এসব স্বর্ণ পাঠানো হচ্ছিল।

তবে বার হিসেবে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ রাখার বৈধতা বা ঘটনার ২২ দিন পর মামলা করার কারণ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে নেমে বগুড়া ডিবি টিম পঞ্চগড় থেকে প্রথমে সাদিকুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে দিনাজপুরের হাকিমপুর থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে রবিউল ও আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে সাদিকুলের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ এবং আসাদুজ্জামানের গরুর ফার্ম থেকে ৪১ লাখ টাকাসহ মোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি এবং রবিউলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।