টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই স্বীকৃতির দাবি, ক্ষোভ

ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেইজে বৃহস্পতিবার এক পোস্টে বলা হয়, টাঙ্গাইল শাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Feb 2024, 12:42 PM
Updated : 3 Feb 2024, 12:42 PM

টাঙ্গাইলের শাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। 

শনিবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে এই বিষয়ে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   

মানববন্ধনকারীরা ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য’, ‘নদী চর খাল বিল গজারীর বন, টাঙ্গাইলের শাড়ি তার গর্বের ধন’, ‘আমার ঐতিহ্য, আমার অহঙ্কার’, ‘টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির জিআই স্বীকৃতি চাই’- ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে দাঁড়ান। 

ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেইজে বৃহস্পতিবার একটি পোস্টে বলা হয়, টাঙ্গাইল শাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য। এক মাস আগেই পণ্যটিকে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, পূর্ববর্ধমানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 

ভারত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানানোর পর বাংলাদেশের অনেক মানুষ এর প্রতিবাদ জানান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

বক্তারা বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ি বাংলাদেশের ঐতিহ্য। এখানকার তাঁতীরা সেই শাড়ি তৈরি করে থাকেন। ভারত এরই মধ্যে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তাদের পণ্য হিসেবে দাবি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। 

সমাজকর্মী মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, ভারতের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে তারা একটি পোস্ট করে দাবি করেছে, টাঙ্গাইলের শাড়ি তাদের পণ্য। এই ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ ও মনক্ষুণ্নু। 

“আমাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে অন্য একটি দেশ কিভাবে নিজেদের পণ্য হিসেবে দাবি করতে পারে এটা আমরা ভাবতেই পারি না। টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই স্বীকৃতি ভারতের হতে পারে না। অবিলম্বে বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইলের শাড়ির জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হোক। নাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”  

গণমাধ্যমকর্মী তারিকুল ইসলাম মিথুন বলেন, “আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই অবিলম্বে সরকার যেন এর প্রতিবাদ জানায় এবং জিআই স্বীকৃতির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”  

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন আরিফুজ্জামান সোহেল, সমাজকর্মী নাজিউর রহমান আকাশ, মির্জা রিয়ান, আহসান খান মিলন, স্মরণ ইসলাম।