প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সরিষাবাড়ী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের

চলতি বছরের ২৬ অগাস্ট এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জামালপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 01:48 PM
Updated : 11 Sept 2022, 01:48 PM

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দুই প্রকৌশলীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন সরিষাবাড়ীর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুবকর তালুকদার।

চলতি বছরের ২৬ অগাস্ট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বুধবার [৭ সেপ্টেম্বর] স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রে মো. আবুবকর তালুকদার বলেন, সৌদি প্রবাসী জনাব আব্দুল খালেকের স্ত্রী জনাব মাহফুজা আক্তার ও সহযোগী ভাড়াটিয়া কর্তৃক মিটার অপসরণ ও বিদ্যুৎ চুরি করার অপরাধ সনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে জনাব মাহফুজা আক্তারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণের জন্য তার বসতঘরে বিদ্যমান প্রি-পেইড মিটারটি লক করে দেওয়া হয়। মিটার অপসরণ ও বিদ্যুৎ চুরি ঘটনার বিশদ বিবরণ, পিডিবি কর্তৃক মাহফুজা আক্তারের বসতঘরের মিটার লক ইত্যাদি সকল বিষয় উল্লেখপূর্বক জনাব মাহফুজা আক্তার ও সহযোগী ভাড়াটিয়াকে বিবাদী করে গত ২২/৮/২০২২ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে বিচার প্রার্থনা করা হয়। মিটার লক অবস্থায় জনাব মাহফুজা আক্তার মিটার বাইপাস করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার অব্যাত রাখার প্রেক্ষিতে মিটার বাইপাস সনাক্তকরণের লক্ষ্যে মিটার আঙ্গিনায় পরিদর্শনের জন্য গত ২৪/০৮/২০২২ইং তারিখে বিদ্যুৎ অফিস থেকে একটি টিমকে প্রেরণ করা হয়। উক্ত টিমে সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সদস্যই ছিলেন না এবং তিনি জনাব মাহফুজা আক্তারের গৃহ আঙ্গিনার আশেপাশেও ছিলেন না। উক্ত টিম জনাব মাহফুজা আক্তারের বসতঘরের মূল দরজা পার হয়ে গৃহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে গৃহ তল্লাশি করেনি।

‘পিডিবির বৈধ কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা লুকাতে’ পিডিবির উক্ত মিটার আঙিনা পরিদর্শন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যা নাটক’ সাজিয়ে মাহফুজা আক্তার পিডিবির বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় ‘মিথ্যা অভিযোগ’ দেন বলে আবুবকর প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেন।

প্রতিবাদে আরও বলা হয়, “জনাব মাহফুজা আক্তরের পরিবার ও তার ভাড়াটিয়াগণ পিডিবি’র জমিতে স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যক্তিগত কাজে পিডিবি’র জমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে আসছেন। সহকারী কমিশনার (ভুমি), সরিষাবাড়ী এর সহায়তার জমি পরিমাপ করে অবৈধভাবে দখল বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

এ সংক্রান্ত কাজে প্রকৌশলী মো. আবুবকর তালুকদারকে প্রবাসী জনাব আব্দুল খালেক ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়।

ওই নারীকে একা নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে যেতে বলার বিষয়ে প্রতিবাদে বলা হয়, সরিষাবাড়ী পিডিবি অফিসে যোগদানের পর থেকে অধ্যবধি কোনো নারী গ্রাহক অথবা নারী কর্মচারী এককভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাত করার ইতিহাস নেই। যেকোনো নারী সাক্ষাতের জন্য আসলে সরিষাবাড়ী পিডিবি অফিসের নারী কর্মচারী জনাব হামিদা বেগম অথবা জনাব ঝর্না বেগম অথবা মোছা. মুনিরা মাহবুবাকে উপস্থিত রেখে নির্বাহী প্রকৌশলী সাক্ষাত দিয়ে থাকেন। তাছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজ কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। ফলশ্রুতিতে জনাব মাহফুজা আক্তারকে একা অফিসে ডাকার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, যা সরিষাবাড়ী পিডিবি অফিসের নারী কর্মচারীগণ প্রমাণ করতে পারবেন।

মাহফুজা আক্তারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরিষাবাড়ী থানার কর্মকর্তাগণ পিডিবি অফিসে তদন্তের জন্য গেলে তাদের প্রয়োজনীয় ‘তথ্য ও প্রমাণক’ প্রদর্শন করায় সরিষাবাড়ী থানা এ সংক্রান্ত মাহফুজা আক্তারের মামলাটি নেয়িনি বলেও প্রতিবাদপত্রে বলা হয়।

প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদকের বক্তব্য

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরিষাবাড়ী বিউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদারের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয় সংবাদে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আবুবকর তালুকদার বলেন, বিউবোর জমি ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করতে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার অফিসে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। তার অফিস কক্ষে কোনো নারী কর্মচারীকেই ঢুকতে দেওয়া হয় না। ওই নারীকে একা দেখা করতে বলার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এই অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার ও সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ ৮/১০ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারী গ্রাহক।

এ কারণে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত কবীরের বক্তব্যও সংবাদে প্রকাশ করা হয়।

ওই নারীর অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ওইদিন সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক