আশ্বিনের ভোরে কুয়াশায় মোড়া শেরপুরে শীতের আমেজ
“রাতেও ঠান্ডা লাগছিল। কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়েছিলাম। এখন আস্তে আস্তে শীত নামবই।”
বাংলা পঞ্জিকায় এখন আশ্বিন মাস। শরতের শেষে কার্তিকে শীতের আগমন ঘটার কথা থাকলেও সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে দেখা মিলছে শীতকালের মত ঘন কুয়াশার।
সোমবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যায়। দৃষ্টিসীমা কমে আসায় কাছের জিনিসও ঝাপসা দেখায়। একই সঙ্গে গাছের পাতা ও ঘাসের ওপর জমে মুক্তার দানার মতো শিশিরবিন্দু।
ভোরে প্রকৃতির কোলে কুয়াশার আবির্ভাবের সঙ্গে ছিল হালকা শীতের পরশ। ঘাসের স্পর্শে ভিজে যাচ্ছে পথচারীদের পা। সবকিছু মিলিয়ে শেরপুরে এক ভিন্নরকম পরিবেশ বিরাজ করছে।
তবে ভোরের এই ঠান্ডা মেজাজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না; বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ আর গরমের প্রখরতাও বাড়ছে। অন্যদিকে আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই থেমে থেমে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে।
ঋতুপরিবর্তনের চেনা হিসাব এখন আর মিলছে না; তাপমাত্রা ও আবহাওয়ায় স্বাভাবিকতাও অনুপস্থিত। অসময়ের কুয়াশা ও চরম গরমের কারণে সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ নানা ধরনের রোগব্যাধিও বাড়ছে।
তবে এ পরিস্থিতিতে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহিন।
তিনি বলেন, “আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে সর্দি-জ্বর-কাশি হওয়া স্বাভাবিক। একটু সতর্ক এবং পরিচর্যা করলে খুব তাড়াতাড়ি এসব রোগ ভালো হয়ে যায়।”
বেশি সমস্যা হলে নিকটবর্তী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে শেরপুরে কোনো আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা অফিস না থাকায় জেলার আবহাওয়ার সঠিক গতিপ্রকৃতি ও আগাম পূর্বাভাস সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া শেখহাটি এলাকার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন,“বর্তমানে বাংলা সালের আশ্বিন মাস চলছে। এখন যে আবহাওয়া চলছে, তাতে সকালে ঘন কুয়াশায় একটু ঠান্ডা ভাব হয়। দুপুরে আবার গরম লাগে। আবার মাঝে মাঝে বৃষ্টিও হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করি।”
পাকুরিয়া এলাকার গৃহকর্মী রৌশন আরা, শেখহাটি এলাকার বাবুল মিয়া, কৃষক হুরমুজ আলী, গণইবড়ুয়াপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান এবং নির্মাণ শ্রমিক ইউসুফ আলী বলছেন, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে কাছের জিনিসও ঝাপসা দেখায় এবং শীত শীত লাগে। কিন্তু বেলা বাড়লেই রোদ উঠে গরম পড়ে, আবার মাঝেমধ্যে বৃষ্টিও নামছে। আবহাওয়া প্রতিদিন এভাবে পরিবর্তন হওয়ায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি ছড়িয়ে পড়ছে।
গনই বড়ুয়া পাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, “আবহাওয়ার এমন গতি প্রকৃতিতে মানুষের মধ্যে জ্বর-সর্দি কাশিসহ নানাবিধ রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে।”
মানদাখালী এলাকার অটোভ্যান চালক সুরুজ আলী বলেছেন, “অহন শেরপুরে সকালে কুয়াশাও পড়ে, বৃষ্টি-বাদলও হয়, আবার গরমও লাগে। এই ধরনের অবস্থাই চলতাছে এহন। যার কারণে ভোরে যাত্রীও কম মিলে।”
গাজীরমোড় এলাকার সজিলা বেগম বলেন, “সকালে কুয়াশা পড়ছে, রাতেও ঠান্ডা লাগছিল। কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়েছিলাম। এখন আস্তে আস্তে শীত নামবই।”
এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
