মাদারীপুরের ডিসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল বিচারক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2023, 06:43 AM
Updated : 30 Nov 2023, 06:43 AM

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে।

গত ৩১ অগাস্ট জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে এই মামলা হলেও বিষয়টি সম্প্রতি গণমাধ্যমের নজরে আসে।

শহরের ১ নম্বর শকুনী এলাকার বাসিন্দা খালেদা ইয়াসমিন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন বলে মঙ্গলবার দুপুরে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ চন্দ্র সরকার।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, খালেদা ইয়াসমিনের ১০ শতাংশ জমি অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তফসিলভুক্ত হয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। এ সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে তিনি মামলা করেন। ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি বাদীর অনুকূলে রায় হয়।

পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। চলতি বছরের ১৭ মে আদালত আপিল নামঞ্জুর করে আগের আদেশ বহাল রাখে এবং আদেশ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে। এছাড়াও মাদারীপুরের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইবুনাল থেকে চলতি বছরের ১৩ জুন ৫৪ নং স্মারকে রায় ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য রায় ডিক্রির অনুলিপি পাঠিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসক ট্রাইব্যুনালের রায় ও ডিক্রি অনুযায়ী জমি অর্পিত তালিকা থেকে অবমুক্তির কোনো পদক্ষেপ নেননি।

নথি পরে বাদীর পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও ডিসি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ডিক্রি বাস্তবায়ন না করা সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ চন্দ্র সরকার বলেন, “রায় বাস্তবায়ন না করায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করেছেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল ও মাদারীপুর যুগ্ম জেলা জজ-১ আদালতের বিচারক কোহিনুর আরজুমান জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।”

জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান এই আইনজীবী।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, “বাদী ভুয়া দলিল তৈরি করে নিজের পক্ষে রায় নিয়েছেন। এসব ভুয়া দলিল বাতিল করার জন্য আরেকটি দেওয়ানি মামলা চলমান। এসব বিষয় আদালতের নজরে আনা হবে।”

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেসবুক লিংক]