একজন রোহিঙ্গাও ঢুকতে দেব না: বিজিবি ডিজি

“প্রধানমন্ত্রী আমাদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
Published : 6 Feb 2024, 11:41 AM
Updated : 6 Feb 2024, 11:41 AM

মিয়ানমারে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্ত ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, “আমরা একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে দেব না। দেশের স্বার্থে সরকার প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।”

নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করে মানবিক দিক এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাও সেরকমই। তিনি আমাদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “রোববার রাত পর্যন্ত ১১৫ জন মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সদস্যরা আত্মসমর্পণ বা আমাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। আজকে সকালে আরও ১১৪ জন যোগ হয়েছে। দুপুরে আরও ৩৫ জনসহ মোট ২৬৪ জনকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি।

“খাবারেরও ব্যবস্থা করেছি। আহত ১৫ জনের মধ্যে আটজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

বিজিবির ডিজি বলেন, “টুঙ্গিপাড়া আসার পথে খবর পেলাম ৬৫ জন রোহিঙ্গা নৌকায় করে বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল। সেখানে টেকনাফ বিজিবি তাদের প্রতিহত করে পুশব্যাক করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনোভাবেই একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশের ভেতরে আমরা ঢুকতে দেব না।”

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, “এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদেরকে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করছে। আশা করছি, সেটা শিগগিরই হবে।”

তিনি বলেন, “দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হলে এদিকে কিছু শেল এসে পড়ছে। দুর্ভাগ্যবশত একজন রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি নারী মারা গিয়েছেন। এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা প্রতিবাদলিপি দিয়েছি। আমরা বারংবার বলছি। আজকেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বড় মিটিং হচ্ছে।

“আর আগামী দিন (বুধবার) আমি সরজমিন পরিদর্শনে যাব। আজ সকালে মিয়ানমারের ডিফেন্স অ্যাট্যাসে (ডিএ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা সবদিক থেকে সম্পৃক্ত হয়ে যত তাড়াতাড়ি এই ব্যবস্থার সুসমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করছি।”

এর আগে দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদিতে পুস্পস্তবক অপর্ণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

পরে তিনি বেদির পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিজিবির একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রদান করা হয় সশস্ত্র সালাম।

পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধু, ১৫ অগাস্টে শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এরপর স্বাক্ষর করেন পরিদর্শন বইতে।

বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যশোর রিজিয়ন কমান্ডার, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে নবনিযুক্ত বিজিবি মহাপরিচালক পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের ‘সীমান্ত গৌরব’ এ মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সোমবার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ।