সিলেটে ‘জমির বিরোধে’ কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

হামলায় নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হন; তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানান।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 03:44 PM
Updated : 10 Feb 2024, 03:44 PM

সিলেটের ওসমানীনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় নারীসহ ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার সকালে উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের বেতখাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদুল হক।

নিহত আনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে।

হামলায় নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হন; তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ওসি জানান।

সন্ধ্যায় নিহতের ভাই নুরুল হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম  উল্লেখসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পরে পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বেতখাই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে শাহিন মিয়া (৩০), একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাদশা (৫০), আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল কাদির (৫০), সিরাজুল ইসলাম বাদশার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৩), আব্দুল গণি স্ত্রী আফিয়া বেগম (৪০) ও আব্দুল কাদিরের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫)।

ওসি রাশেদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।”

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে জিলু মিয়া ও আনোয়ার হোসেনদের সঙ্গে তাদের চাচাতো ভাইদের বিরোধ ছিল। গত শুক্রবার জিলু তার মেয়ের কবর জিয়ারত করে প্রতিপক্ষের ঘরের সামনে দিয়ে আসার সময় তাকে মারপিট করা হয়। আগামী রোববার বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান মীমাংসা করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই শনিবার সকালে গণি মিয়া, বাদশা মিয়া, কাদির মিয়া, শাহিন মিয়া ও সুমন মিয়ারা রামদাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিলু মিয়া ও আনোয়ার হোসেনদের ঘরে হামলা চালায়।

তাহমিনা বেগম নামে ওই বাড়ির এক নারী বলেন, “প্রতিপক্ষ  রামদাসহ অস্ত্র নিয়ে সকাল ৮টায় আমাদের ঘরে হামলা চালায়। ঘর-দুয়ার ভাঙচুর করে আমার পিতা জিলু মিয়া, ভাই রাসেল মিয়াসহ মহিলাদের ঘর থেকে টেনে বের করে কোপাতে শুরু করে।”

তার অভিযোগ, “এ সময় আমার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বাড়ির পাশের মাঠে গরু নিয়ে যান। হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়ালী উল্যাহ বদরুল সাংবাদিকদের বলেন, “তাদের দুপক্ষের মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। শুক্রবার ঘরের সামন দিয়ে যাওয়া নিয়ে জিলু মিয়ার ওপর হামলার ঘটনাটি মীমাংসা জন্য রোববার ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শনিবার সকালেই আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আনোয়ার হোসেনকে হত্যাসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করে। হামলাকারীরা রাসেল নামে এক যুবকের পায়ুপথ দিয়ে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।”