ভেড়া পালন-সবজি চাষে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন গাইবান্ধার মতিজান

বারবার নদী ভাঙনের শিকার এ নারীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয় বসতবাড়িতে শাক-সবজি চাষ করে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Nov 2022, 06:17 AM
Updated : 12 Nov 2022, 06:17 AM

গাইবান্ধার চরাঞ্চলের দরিদ্র নারীরা আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে ভেড়া পালন ও শাক-সবজি উৎপাদনে ঝুঁকছে। তাদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর মাদারবাড়ির মতিজান বেগম সুবিধাভোগীদের একজন। বারবার নদী ভাঙনের শিকারে নিঃস্ব ২৮ বছর বয়সী এ নারীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয় বসতবাড়িতে শাক-সবজি চাষ করে। এখন উন্নত জাতের একটি ভেড়ার খামার তৈরি করে এক সুন্দর আগামীর স্বপ্নও দেখছেন তিনি।

মতিজান জানান, তার পরিবার পাঁচবার নদী ভাঙনের শিকার হন। সব হারিয়ে তার স্বামী তিন মেয়ে ও বৃদ্ধ শ্বশুরসহ সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাদারীপাড়ায় আশ্রয় নেন। সেখানে ৯ শতক জমি লিজ নিয়ে ৭ শতক জমির ওপর বসতবাড়ি তৈরি করেন। বাকি জমি ফেলে রাখেন উঠান হিসাবে।

সর্বহারা এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মতিজানের স্বামী ফরহাদ হোসেন। তার দিনমজুরির আয়েই তাদের সংসার চলতো। কিন্তু সবসময় কাজ না থাকায় চরম অভাবের মুখও দেখতে হয়েছে পরিবারটিকে।

মতিজান বলেন, এ সময় ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এ এস ডি প্রকল্পের অধীন চরাঞ্চলের কিছু নারীদের কৃষি ও প্রাণী সম্পদের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজির বীজ দেওয়া হয়। তিনি বীজগুলো বাড়ির আঙিনায় ও উঠনের দুই শতক জমিতে চাষ করেন।

শাক-সবজির প্রচুর পরিমাণে ফলন হয়। নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বাজারে এই শাক-সবজি বিক্রি করেন। এতে তার ৮ হাজার টাকা আয় হয়। এরপর তাকে ফ্রেন্ডশিপ থেকে একটি ভেড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন পর ওই ভেড়া আরও একটি বাচ্চা প্রসব করে। এখন তার ছয়টি ভেড়া।

ওই এনজিওর সাপ্তাহিক সভায় মতিজান জানতে পারেন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় সরকার থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের বয়স্ক ভাতা ও বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি তিন মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করান। আর ফ্রেন্ডশিপের এক কর্মকর্তার অনুরোধে হরিপুর ইউনিয়নের পরিষদের মেম্বার তার শ্বশুরকে একটি বয়স্ক ভাতাকার্ড করে দেন। এখন তার শ্বশুর প্রতিমাসে পাঁচশ টাকা পান।

“মেয়েরাও বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা পায়। ফলে সবমিলে সংসারে এখন আর আগের মতো অভাব অনটন নেই।” যোগ করেন তিনি।

আনজুমান আরা বেগম নামের আরেক সুবিধাভোগী জানান, তিনিও এ প্রকল্প থেকে একটি ভেড়া ও ষোল জাতের সবজির বীজ পেয়েছেন। চরের জমিতে ভেড়া পালনের পর ভেড়ার সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি বসতভিটাতেও ব্যাপক হারে লাউসহ সবজি চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন তার ভেড়ার সংখ্যা পাঁচটি । 

তিনি আরও বলেন, “দেড় বছরে আমাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেও ২৪ হাজার টাকা আয় করছি। এই অর্থ পরিবারের সংকটময় সময়ে অনেক কাজে লেগেছে।”

ফ্রেন্ডশিপ এর এ এস ডি প্রকল্পের ম্যানেজার দিবাকর বিশ্বাস বলেন, গাইবান্ধার বিভিন্ন চরে দুই শতাধিক পরিবার মতিজান বেগমের মত সফল হয়েছে; তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক