০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো কারণ পাওয়া যায়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 04:04 PM

Updated : 09 Oct 2026, 04:27 PM

কুষ্টিয়ায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে কুমারখালী ৯ নম্বর পৌর ওয়ার্ড ‘খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে’ প্রতিমা ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে। এতে গণেশ, লক্ষ্মী ও দুর্গার বাহন সিংহের প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্দির কমিটির সাধরণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলে। কাজ শেষে আমরা সবাই ঘুমাতে যাই। সকালে ৬টার দিকে উঠে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পাই।”

প্রাথমিকভাবে কে বা কারা কি কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। শুক্রবার রাতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেন কারিগর অধীর বিশ্বাস। কাজ শেষ করতে রাত প্রায় পৌনে ২টা বেজে যায়। এ সময় অধীরের সঙ্গে আরও চারজন মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন।

কাজ শেষে মন্দির সংলগ্ন একটি বাড়িতে তারা রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন।

মন্দির কমিটির কর্মকর্তা কৌশিক বিশ্বাস বলেন, “কে বা কারা প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে প্রতিমা নির্মাণকে কেন্দ্র করে মন্দিরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ প্রতিমা নির্মাণের কাজে যুক্ত থাকলেও অন্য পক্ষ মন্দিরে আসছে না। এ নিয়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে নেতৃবৃন্দ একাধিকবার বসেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি।

“প্রতিমা নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনেক মন্দিরেই নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং থাকে। আমার ধারণা, এই বিরোধের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ প্রতিমা ভাঙচুর করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।”

জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়দেব বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দের জেরে এ ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া এখানে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক কোনো ইস্যু সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো বাস্তবতা নেই।”

ওসি জামাল উদ্দিন বলছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।