বগুড়ায় পাশাপাশি মন্দির-মাজারে জ্বলল দীপাবলীর আলো
অনেকেই কালী মন্দিরে প্রণাম করে আবার ফতেহ আলী মাজারেও মাথা ঠুকান।
বগুড়ার বৃহৎ কাঁচাবাজার। নাম তার ফতেহ আলী বাজার। একপাশে আনন্দময়ী মা কালী মন্দির এবং অন্যপাশে বাবা হয়রত শাহ সুফি ফতেহ আলী অস্কালির (রহঃ) মাজার। পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
অনেকেই কালী মন্দিরে প্রণাম করে আবার ফতেহ আলী মাজারেও মাথা ঠুকান।
মন্দির ও মাজারের দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ। রোববার সন্ধ্যায় দুটি প্রতিষ্ঠানেই দীপাবলির আলো জ্বলতে দেখা গেছে।
সন্ধ্যায় মন্দিরে মোমবাতি হাতে আলো জ্বালাতে এসেছেন বগুড়ার চেলোপাড়ার অনিতা দাস।
তিনি বলছিলেন, “বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই ফতেহ আলী বাজারের কালী মন্দিরে আসি। এখানে হিন্দু-মুসলিম কোনো ভেদাভেদ নেই। মন্দির থেকে মাজারেও যাই।”
মাজারে আসা আয়েশা বেগম বলেন, “কালী পূজার মধ্যে আসলাম। এর আগেও এসেছি। এখানে এটা সৌহার্দ্য।”
ফতেহ আলী বাজার আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দিরের পুরোহিত রাজেন্দ্র সান্যাল বলেন, “২০০ বছরের বেশি সময় ধরে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি চলছে। কখনও এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অঘটন ঘটেনি।”
ফতেহ আলী মাজারের খাদেম ফিরোজ উদ্দিন বলেন, “আমরা মজারেও দিপাবলী আলো জ্বালিয়েছি। এখানে মন্দির-মাজার পাশাপাশি থাকলেও কখনও সংঘাত হয়নি। বরং সম্প্রীতি অটুট রয়েছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই মাজারটি প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো। মন্দিরটিও কাছাকাছি সময়ে নির্মিত।
