তিন মন্দিরে সোনা চুরির ঘটনায় দম্পতি গ্রেপ্তার
সবশেষ তারা রমনা কালী মন্দির থেকে বিগ্রহের স্বর্ণ চুরি করে বলে পুলিশের তথ্য।
ঢাকার রমনা কালী মন্দিরে বিগ্রহের স্বর্ণ চুরির ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- লিপি কর্মকার (২৯) ও অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০)।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশের দাবি, এই দম্পতি এর আগে আরো দুটি মন্দির থেকে স্বর্ণ চুরিতে জড়িত।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, “তারা মোট তিনটি মন্দির থেকে চুরি করেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে, আরও কোনো ঘটনায় তারা জড়িত কি না।“
রমনা কালী মন্দির থেকে গত ৭ অক্টোবর দিনের কোন এক সময় কে বা কারা বিগ্রহের মুখ থেকে প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ ঘটনায় ওই মন্দিরের পুরহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দিলে বিষয়টি ‘গুরুত্ব দিয়ে’ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
সিসিটিভির ভিডিও সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোর শনাক্ত করতে মাঠে নামার কথা তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেন, “উত্তরখানের দোবাদিয়া এলাকা থেকে গত রোববার সকালে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়।”
সেদিনই শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয় এবং তাদেরকে আদালতে পাঠালে তারা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
তাদের দেওয়া তথ্যে সোমবার দক্ষিণখান এলাকায় ‘সাদিয়া জুয়েলার্সে’ অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে দোকান মালিক মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চুরির দিনই লিপি কর্মকার ওই দোকানে গিয়ে স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন।
যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, “গ্রেপ্তার মুহিনের কাছ থেকে ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির থেকেও স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় রমনা থানায় আরেকটি মামলা হয়েছিল।
“এ ঘটনায়ও এই দম্পতির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।”
এ দম্পতিই গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়নগঞ্জের দেওভোগে লোকনাথ মন্দির থেকে লেকনাথের বিগ্রহের গলার স্বর্ণের চেইন চুরি করে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিতের হাতে ধরা পড়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানতে পেরেছে, হাতেনাতে তাদেরকে ধরলেও মন্দির কমিটির সদস্যরা পরে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেন, “যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর, সামনেই দুর্গাপূজা। আমরা এই চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তিনটি ঘটনা পেয়েছি, তারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আরও কোনো ঘটনা আছে কি না আমরা রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করব।”
ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে দুর্গাপূজার কোনো সম্পর্ক নেই, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হবে। আমাদের পর্যাপ্ত ডেপ্লয়মেন্ট রয়েছে, কোথাও কোনো সহিংসতা বা কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা মনে করি সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে, কোন ধরনের দুর্ঘটনার কোনো শঙ্কা নেই।”
