‘ঘরভাঙা আতঙ্কে’ নারী ফুটবলার মাসুরার পরিবার

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া জমিতে ইটের ঘর তুলে থাকেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের পরিবারের সদস্যরা।

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসাতক্ষীরা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 05:17 PM
Updated : 21 Sept 2022, 05:17 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের জমিতে তোলা ঘর সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘অবৈধ স্থাপনায়’ পড়ায় ভাঙার তালিকায় রয়েছে।

এ কারণে যেকোনো সময় ঘরটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছে মাসুরার পরিবার।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একখণ্ড জমিতে ইটের দেয়াল আর টিনের চাল তৈরি করে থাকেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।

২০১৮ সালে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের আসরে মাসুরা পারভীনের একমাত্র গোলে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। তাদের নিজস্ব জমি না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আট শতক সরকারি জায়গা দেওয়া হয়।

তাদের এই ঘরটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় পড়ায় ভেঙে ফেলার জন্য ক্রস চিহ্ন দিয়েছে তারা। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা ঘরভাঙা আতঙ্কে রয়েছেন।

সাতক্ষীরা শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বেতনা নদীর তীরে বিনেরপোতা এলাকায় মাসুরাদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির পিছনে তিনটি ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মাসুরার বাবা রজব আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০১৮ সালে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের মেয়ের একমাত্র গোলে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। তাদের থাকার জায়গা না থাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি মাথা গোজার ঠাঁই করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কিন্তু যে জমি দেওয়া হয় সেই জমিতে ১৫ ফুট পানি ছিল উল্লেখ করে রজব আলী বলেন, “বিভিন্ন দপ্তরে বহুদিন হাঁটাহাঁটি করার পর বাধ্য হয়ে মাসুরার বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ খেলে পাওয়া তিন লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভরাট করি। সেই সময় মাসুরা ২৮ দিন বাড়ি ছিল। তার ইচ্ছা ছিল দুই দিন বাড়িতে থেকে ঢাকায় যাবে। ২৬ দিনে মেয়ের খেলার পুরস্কারের টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি করে; এরপর মাত্র দুদিন থেকে ঢাকায় খেলতে চলে যায় মাসুরা।”

তিনি আরও বলেন, “এত টাকা খরচ করে আজ এক প্রকার সর্বশান্ত। আমি অসুস্থ, আয় করতে পারি না। মেয়ের খেলার টাকায় সংসার চলে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবে। সেই হিসেবে আমাদের বাড়িতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি; তিনি বলেছেন – ‘সড়ক বিভাগের সীমানার মধ্যে আপনার বাড়ি পড়লে আমাদের করার কিছু নেই।’ খুবই চিন্তায় আছি। ঘর ভেঙে দিলে নতুন ঘর কীভাবে তৈরি করব?”

রজব আলী আরও বলেন, “এর আগে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাগাছা পূর্বপাড়ায় একটি জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা দোচালা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতাম। চাল ভেঙে পড়ছিল, দেয়াল খসে পড়ছিল। পরে মাসুরার সঞ্চিত টাকা দিয়ে এই ঘর করেছি। আগে ভ্যানে ফল-মূল বিক্রি করে সংসার চালাতাম। অসুস্থার কারণে এখন আর সেটাও করতে পারি না।”

মাসুরার মা ফাতেমা বেগম বলেন, “মেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরবে; দেশের মানুষ আনন্দ করছে। আমরা তো চিন্তাই আছি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরকারি জায়গায় থাকায় সব স্থাপনা উচ্ছেদ করবে। আমাদের ঘরের পিছনে ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। খুবই চিন্তায় আছি, ঘর ভেঙে দিলে থাকব কোথায়?”

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, “ক্রস চিহ্ন দিলে সরকারিভাবে জমি পাওয়ার প্রমাণপত্র নিয়ে উচ্ছেদের দিন থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন। ভুল করেও ক্রস দিতে পারে। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক