বাংলাদেশ থেকে পাচার করা সারে মিয়ানমারে বোমা তৈরি হচ্ছে?
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যে, পাচার করা সারের ‘বিনিময় পণ্য’ হচ্ছে মাদক ও অস্ত্র।
সারের জন্য দেশে কৃষকের হাহাকার থাকলেও একটি চক্র সীমান্ত দিয়ে পাচার করে দিচ্ছে এই কৃষি উপকরণ; যার উপাদান দিয়ে মিয়ানমারের যুদ্ধক্ষেত্রে ‘বোমা’ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‘পথে পথে নজরদারির পরও’ কক্সবাজারের উপকূলীয় সীমান্তরেখা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পথ ধরে নাফ নদী পেরিয়ে এই সার পাচার হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের ভাষ্যে উঠে এসেছে।
সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবিও প্রচুর সার জব্দ করে থানায় মামলা দিয়ে হস্তান্তর করছে। সেসব মামলার নথিতে বলা হচ্ছে, জব্দ করা সার পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।
এ চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাশাপাশি স্থানীয়দের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এই পাচারের কাজে অর্থের পরিবর্তে ‘পণ্য বিনিময় মডেল’ অনুসরণ করা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যে, পাচার করা সারের ‘বিনিময় পণ্য’ হচ্ছে মাদক ও অস্ত্র।
সম্প্রতি উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে গিয়ে কৃষকের জমি, সারবাহী চালান আটকের নথি, সীমান্তের একাধিক তল্লাশি চৌকি এবং স্থানীয়দের বর্ণনা মিলিয়ে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এপারে হলুদ জমি
আঞ্জুমানপাড়া গ্রামের একেবারে ওপারেই মিয়ানমার। দুই দেশের মাঝখানে ছোট নাফ নদী।
এই সীমান্তেই নিজের প্রায় সাত কানি (এক কানি সমান প্রায় ৩৯ শতাংশ) জমি নিয়ে বিপাকে আছেন কৃষক মোক্তার আহমদ। একবার সার প্রয়োগেই তার প্রয়োজন প্রায় তিন বস্তা। কিন্তু তার দাবি, এ পর্যন্ত এক কেজি সারও পাননি।
কথা বলতে বলতে নিজের জমির দিকে দেখিয়ে মোক্তার বলেন, “জমির বড় অংশ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। নিজে সার পাচ্ছি না অথচ বিজিবি সার ধরতেছে।”
মোক্তার একা নন। আঞ্জুমানপাড়া ও আশপাশের এলাকায় পাঁচ-সাতজন কৃষকের অভিযোগেও উঠে এসেছে, একই সংকটের কথা। নির্ধারিত সময়ে সার না পেয়ে ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, জমির কোথাও কোথাও হলুদাভ রং দেখা দিয়েছে।
কৃষক মমতাজ মিয়া বলেন, “ডিলারের কাছে গেলে বলে পরদিন সার দেওয়া হবে। পরদিন গেলে আবার বলা হয় সার নেই।”
তার ভাষায়, তিনি যখন সার খুঁজছেন, তখন সীমান্তের পথে বস্তা বস্তা সার ধরা পড়ছে। কোথা থেকে কীভাবে আসছে এই সার–এটাই তার প্রশ্ন।
ইউরিয়া জব্দের ছয় মামলা
উখিয়া থানায় গত দুই মাসে হওয়া ছয়টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৭ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সীমান্তপথে অভিযানে শুধু ইউরিয়া সারই জব্দ হয়েছে ১৫ হাজার ৫০ কেজি।
২৭ জুন আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকায় জব্দ করা হয় ৯০ বস্তা বা ৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার এবং ৮০ লিটার সয়াবিন তেল। পরদিন কাঁঠালতলা খাল থেকে উদ্ধার হয় আরও ১৫ বস্তা বা ৭৫০ কেজি ইউরিয়া।
৩০ জুন ফারির বিল নারকেল বাগান এলাকায় ২০ বস্তা বা এক হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। ১৩ জুলাই পূর্ব ফারির বিল এলাকায় উদ্ধার হয় সবচেয়ে বড় চালানগুলোর একটিতে ১১৫ বস্তা বা পাঁচ হাজার ৭৫০ কেজি ইউরিয়া।
১৮ জুলাই গয়ালমারা এলাকার একটি টিনশেড গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ৫৫ বস্তা বা ২ হাজার ৭৫০ কেজি টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার। আর ২৭ আগস্ট আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আবারও জব্দ হয় ছয় বস্তা বা ৩০০ কেজি ইউরিয়া ও ২০ লিটার সয়াবিন তেল।
ছয়টি মামলার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ, সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এর বাইরেও গত জুনে কুতুপালং হয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার একটি মিনি ট্রাক থেকে জব্দ করেছিল বিজিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সারগুলো কুতুপালংয়ে মজুদ রেখে পর্যায়ক্রমে সীমান্ত দিয়ে পাচারের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে বিজিবি জানিয়েছিল।
জুলাইয়ে আঞ্জুমানপাড়া স্লুইস গেট এলাকা থেকেও ১৩ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ এবং চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছিল বিজিবি। আটক ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন বলে সে সময় জানানো হয়।
৫০০ মিটার পরপর পর্যবেক্ষণ চৌকি, তবু…
আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৫০০ মিটার পরপর পর্যবেক্ষণ চৌকি দেখা যায়।
তারপরও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ছোট চালানে সার সীমান্তের দিকে চলে যাচ্ছে।
সীমান্তের কয়েকশ মিটারের মধ্যে একাধিক চেকপোস্ট থাকলেও রাতের আঁধার, জলপথ ও পাহারার সময়সূচির ফাঁক কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা সার সীমান্তের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানান এক বিজিবি সদস্য।
তার ভাষ্য, সাধারণত ছোট ছোট দলে সার বহন করা হয়, কখনও প্লাস্টিকের পাত্র বা বস্তায় করে তা নেওয়া হয়। বিজিবির সদস্যরা কোন দিকে অবস্থান করছেন, কখন টহল দিচ্ছেন, পাচারকারীরা সেদিকেও নজর রাখে। কখনো কেউ ধরা পড়ে, আবার অনেকে অন্ধকার বা জলপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। এমনকি দিনের বেলাতেও অল্প পরিমাণ মালামাল নেওয়ার চেষ্টা হয়।
কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, একসঙ্গে বড় চালান না নিয়ে কেউ কেউ ১০-২০ কেজি করে সার নিয়ে যায়। এসব চালানের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে আগে থেকেই লোক থাকে। এপারের বস্তা নদীর কাছে পৌঁছালে নৌকায় করে সেগুলো ওপারে নেওয়া হয়।
মিয়ানমারের নাইসাদং বাজারের দিকে এসব চালান যায়, এমন বর্ণনাও এসেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
এ ব্যাপারে ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সীমিত জনবলের মধ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আগের চেয়ে পাচার অনেক কমেছে। সীমান্ত সড়ক ও কাঁটাতারসহ রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা হলে পাচার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার সম্ভাবনা আছে।”
রোহিঙ্গারা বাহক, স্থানীয়রা?
টেকনাফ থানায় সার পাচারের মামলার নথিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নাম এসেছে। কাঁঠালতলা খাল এলাকা থেকে জব্দ করা সারের মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিবন্ধিত বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক বলছেন, এক বস্তা সার সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা শ্রমিকদের প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। আর নৌকার মাঝি এক বস্তার জন্য প্রায় ৩০০ টাকা পান।
পালংখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, “এতে বোঝা যায়, বড় কোনো ট্রাক সরাসরি সীমান্তে না গিয়ে সারকে কয়েক ধাপে ভাগ করে ছোট ছোট চালানে নেওয়া হলে পাচারের ঝুঁকি কমানো যায় এবং একই সঙ্গে বাহকদের মাধ্যমে একটি শ্রমভিত্তিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।”
কোথা থেকে আসে সার
পালংখালীর সার ডিলার ইব্রাহিম আজাদের দাবি, তার কাছ থেকে চোরাকারবারিরা সার নেওয়ার সুযোগ পায় না। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী, কৃষকের তালিকা করে সার দেওয়া হয়।
একই কথা বলেছেন ডিলার সেলিমুল্লাহও।
উখিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেছেন, তাদের পর্যবেক্ষণে মিয়ানমারে পাচারের জন্য যে সার ধরা পড়ছে, তার বড় অংশ বাইরে থেকে উখিয়ায় আনা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
কারণ, উখিয়ার সরকারি বরাদ্দের পরিমাণের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে ধরা পড়া বিপুল পরিমাণ সার মিলছে না।
১৯ সেপ্টেম্বরও পালংখালীর দুই জায়গা থেকে ৭৭ বস্তা ইউরিয়া জব্দের খবর এসেছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে সার কিনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করে আসছে।
ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলছেন, উখিয়া ও টেকনাফ থেকে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে তল্লাশি করা হলেও এখানে ঢোকার সময় তল্লাশি করা হয় না কোনো যানবাহন। ফলে বাইরে থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার ঢুকছে খুব সহজে।
এম গফুর উদ্দিন বলেন, উখিয়ার গয়ালমারা এলাকার সোনা মিয়া নামের এক ব্যক্তি সার পাচারের সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দেন।
পাচারের ঘটনায় করা দুটি মামলার নথিতেও এসেছে তার নাম। ১৩ জুলাইয়ের একটি মামলায় এবং ১৮ জুলাইয়ের আরেক মামলায় তার নাম রয়েছে।
তবে চেষ্টা করেও সোনা মিয়া নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
ইউরিয়ায় বোমা তৈরির উপাদান?
সার পাচারের সঙ্গে বোমা তৈরির সম্পর্কের তথ্য দিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাওয়া ইউরিয়া সারের উপাদান দিয়ে বোমা তৈরি করা হয়।
তার ভাষ্য, ইউরিয়াভিত্তিক উপাদান বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
কৃষিতে ব্যবহৃত ইউরিয়ায় সাধারণত প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে। সাধারণ অবস্থায় ইউরিয়া সার নিজে থেকে বিস্ফোরক নয় এবং এটি নিরাপদ।
তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক তৈরির পূর্বধাপের উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএসএ-র কাউন্টার-আইইডি নির্দেশিকায় ইউরিয়াকে সম্ভাব্য বিস্ফোরক পূর্বধাপের রাসায়নিকের তালিকায় রাখা হয়েছে।
আবার নাইট্রোজেন-ভিত্তিক সারের মধ্যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরাসরি বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গফুর উদ্দিনও বলেছেন, মিয়ানমারে ইউরিয়া সার দিয়ে বোমা তৈরির কথা তিনি শুনেছেন। এমনকি ব্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিডও পাচার হয়, যা ধরাও পড়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে এমন বিস্ফোরকের যোগসূত্র থাকার কথাও তিনি বলেছেন।
জানতে চাইলে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, ইউরিয়া থেকে বিস্ফোরক তৈরি করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া দিয়ে মিয়ানমারের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বোমা তৈরি করে ব্যবহার করছে কি না, এমন নির্দিষ্ট তথ্য তিনি জানেন না।
এমদাদুল ইসলামের ভাষ্য, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্ফোরক সংগ্রহের অন্য উৎসও রয়েছে।
তার মতে, বাংলাদেশ থেকে শুধু বিস্ফোরক তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ সার যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও চোরাচালানে সার, সিমেন্ট, রডসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্য যাওয়ার ঘটনা রয়েছে।
‘পণ্য বিনিময়’
সার পাচারের অর্থের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এমদাদুল ইসলামের ভাষ্য, মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষ বাংলাদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। সেই অস্ত্র বিক্রির অর্থ ব্যবহার করেই বাংলাদেশ থেকে সার কেনা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভর্তুকির সার মিয়ানমারে যাওয়ার বিনিময়ে ইয়াবা দেশে আসে।
তিনি বলেন, “সীমান্তে সার নিয়ে যাওয়া এবং মাদক নিয়ে ফিরে আসা, দুই ধরনের অপরাধকে যদি একই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তাহলে সার পাচারের অর্থনৈতিক লাভের সঙ্গে মাদক ব্যবসার লাভও যুক্ত হচ্ছে।”
