ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ‘ধর্ষণ’, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

এক ব্যক্তি টিনের ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ঘরের দরজা খুলে দিলে আরও দুজন প্রবেশ করে। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়।

নোয়াখালী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 11:25 AM
Updated : 6 Feb 2024, 11:25 AM

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে এক নারী তার ও মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও একজনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জেলা শহরের মাইজদী এলাকা থেকে আবুল খায়ের ওরফে মুন্সি মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ৫০ বছর বয়সী আবুল খায়ের চর কাজী মোখলেছ গ্রামের গোলাপ রহমানের ছেলে। তিনি ওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

এ মামলার আরেক আসামি একই এলাকার বশির আহমেদের ছেলে মো. হারুন (৪০)। তাকেসহ বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান এসপি।

এদিকে সকালে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে মায়ের ৩০ ও তার মেয়ের বয়স ১২ বছর বলে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার সময় ওই গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিল না। প্রথমে এক ব্যক্তি টিনের ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ঘরের দরজা খুলে দিলে আরও দুজন প্রবেশ করে। ওই নারী টের পেয়ে চোর বলে চিৎকার করলে ওই তিনজন ওড়না ও কাপড় দিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

“এ সময় পাশের ঘরে থাকা তার মেয়েরও হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর দুজন মাকে ও একজন মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে তারা ঘর থেকে এক জোড়া কানের দুল, দুটি নাকফুল ও নগদ ১৭ হাজার ২২৫ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।”

খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীর ভাই জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে চরজব্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে আলামত জব্দ করে বলে আসাদুজ্জামান জানান।