আগাম জাতের বরবটি চাষে সফল শেরপুরের কৃষক
কৃষক আনিসুর রহমানের পঞ্চশ শতাংশ জমির চাষে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা; লাভের প্রত্যাশা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
শেরপুরে আগাম জাতের বরবটি আবাদে ভালো লাভ করেছেন কৃষকরা।
শেরপুর সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া, শ্রীবরদীর রাজাপাহাড় ও ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম এলাকায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে এ বরবটির আবাদ।
পাইকারি বাজারে প্রতিমন বরবটি দুই হাজার টাকা এবং প্রতি কেজি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে স্থান ভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরেও তা বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এই সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি।
শেরপুর সদর উপজেলার আনিসুর রহমান জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে বরবটি চাষ করেছেন। এতে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি। এ পর্যন্ত আমার ২০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আশা করছি আরও মিনিমাম ১ লাখ টাকা লাভ হবে।”
তিনি আরও জানান, এ বরবটি বাজারে নেওয়া লাগে না। বাড়ি থেকেই পাইকাররা ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যায়।
নারী কৃষি শ্রমিক নুরজাহান বেগম বলেন, “কৃষক আনিসুর রহমান বরবটির আবাদ করছে। এটা আমরা দেখাশোনা করি, আবর্জনা বাছি ও বরবটি উঠাই। এ কাজে আমাদের দিনে ২৫০ টাকা বেতন দেয়। বাড়ির কাছেই থাকি। সংসার ভালোই চলে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এবার জেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে বরবটির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০০ মেট্রিক টন।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় জেলায় চাষিরা আগাম জাতের বরবটি আবাদে আগ্রহী। এ সবজির আবাদ দিনদিন বাড়ছে।
বিষমুক্ত বরবটি উৎপাদনে জেলার কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
