শেরপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৫ নেতা-কর্মী কারাগারে

মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

শেরপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Nov 2022, 12:52 PM
Updated : 23 Nov 2022, 12:52 PM

শেরপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় আটক ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শেরপুর সদর থানার এসআই আমিনুর রহমানের করা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক কেএম শহীদুল হক জানান।

মামলায় ৬৬ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর ও সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বাদী জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আদালতের পরিদর্শক শহীদুল হক জানান, আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়া হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের গৃদানারায়ণপুরের বাসভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

বিএনপি নেতাদের দাবি, বিক্ষোভ মিছিলটি রঘুনাথবাজার কালীমন্দির মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে।

এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে শহরের রঘুনাথ বাজার ও গৃদানারায়ণপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাস্তায় যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও শটগান থেকে গুলি ছুড়ে।

পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটপাটকেলের আঘাতে এবং দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় পথচারী, বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে অহেতুক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালিয়েছে। অনেক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।”

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের ভাষ্য, বিএনপির নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ৬/৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

Also Read: শেরপুরে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, আটক ১৬

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক