পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন: তিন মামলায় ২৬ জন কারাগারে
এর মধ্যে পল্লবী থানার দুই মামলায় ১৩ জন ও সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানার মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে করা তিন মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আলাদাভাবে শুনানি করে এ আদেশ দেয়।
এর মধ্যে পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা আরেক মামলায় সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক ও এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন—মো. ওলিউল্লাহ অনিক, মো. কামাল গাজী, আলিফ হোসেন ইমন, রমজান সরকার, মো. মহিম মোল্লা, জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান, মো. আরিফ আকন্দ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ, মো. আরিফ, মো. নাহিদ হাসান, মাহবুবুর রহমান জুয়েল, শামীম, মো. সুমন গাজী, মো. ইউসুফ আলী, রাজীব চন্দ্র দাশ, মো. জামাল সরকার, মো. তারেক হোসেন, মো. ইমরান হোসেন, মো. আবুল কাসেম, মো. মহীন উদ্দিন, কাওসার আহমেদ, মো. রফিক গাজী, মো. ইসমাইল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব শেখ ও মো. মোর্শেদ আলম।
পুলিশ তিন মামলায় গ্রেপ্তার এই ২৬ জনকে আদালতে হাজির করে। এ সময় পল্লবী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম।
একই থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সাতজনকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিয়াকত হোসেন।
অন্যদিকে, মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ছয়জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজিম আহমেদ।
পৃথক তিন আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পল্লবী থানার দুই মামলা
পল্লবী থানার দুই মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
মিরপুর মডেল থানার মামলা
মিরপুর মডেল থানার মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের মজুরিসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিরপুর-১০ এলাকার একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত সামিয়া নামের এক নারী পুলিশ সদস্য আহত হন।
