কাঁচা চা পাতার দাম কম দেওয়ায় পঞ্চগড়ে ৪ কারখানাকে জরিমানা

কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারিত হলেও কেনা হচ্ছিল ১৪ থেকে ১৫ টাকায়।

পঞ্চগড় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 04:05 PM
Updated : 26 July 2022, 04:05 PM

মৌসুমের শুরু থেকে নির্ধারিত মূল্যে চা পাতা বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছিলেন পঞ্চগড়ের চা চাষিরা। অভিযানে হাতেনাতে তার প্রমাণ পেয়ে দুদিনে চার কারখানাকে জরিমানা ও সতর্ক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ার দুটি ও আগের দিন সোমবার পঞ্চগড়ে দুটি চা প্রক্রিয়াজাত কারখানাকে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কম দামে চা পাতা কেনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা ও সতর্ক করেছে।

কারখানাগুলো হলো সুরমা এন্ড পূর্ণিমা টি ফ্যাক্টরি, রয়েল টি ফ্যাক্টরি, মৈত্রী টি ফ্যাক্টরি ও নর্থ বেঙ্গল সেন্ট্রাল টি ফ্যাক্টরি।

তিনি বলেন, “জেলা কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটির সর্বশেষ সভায় মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অভিযানে গিয়ে দেখা গেছে কারখানাগুলো নির্ধারিত দাম না মেনে ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে কাঁচা চা পাতা কিনছে।

“একই সাথে কোনো কোনো কারখানা মোট ওজন থেকে ১৫-২০ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্য দিচ্ছে। চাষিরা এসব অভিযোগই করে আসছিলেন।”

প্রত্যাশিত মূল্যে চা পাতা বিক্রি করতে না পেরে সড়কে চা পাতা ছিটিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন চাষিরা। তাদের এমন নানামুখী তৎপরতায় টনক নড়ে প্রশাসনের।

ক্ষুদ্র চা চাষি নেতা ও অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “আমরা আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই বলছি যে কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে চা পাতা কিনছেন। একাধিকবার এ বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়।

“কিন্তু কোনোভাবেই অভিযোগের সমাধান হচ্ছিল না। তবে অল্প সময়ে প্রশাসন তৎপর হয়ে অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে।”

শামীম আল মামুন জানান, নির্ধারিত ১৮ টাকা দামের চেয়ে কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচা চা পাতা কেনা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় দুইটি চা কারখানাকে ১২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

কারখানা দুটি হল শালবাহান ইউনিয়নের সুরমা এন্ড পূর্ণিমা টি ফ্যাক্টরি ও রয়েল টি ফ্যাক্টরি।

তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা।

আগের দিন সোমবার পঞ্চগড়ে দুটি কারখানাকেও একই অভিযোগে জরিমানা গুনতে হয়। এদিন মৈত্রী টি ফ্যাক্টরি ও নর্থ বেঙ্গল সেন্ট্রাল টি ফ্যাক্টরিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কম মূল্যে চা পাতা ক্রয়ের বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণ পায়।

এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুল হক।

তিনি মৈত্রী টি ফ্যাক্টরিকে পাঁচ হাজার এবং নর্থ বেঙ্গল টি ফ্যাক্টরিকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসঙ্গে কারখানা দুটিকে ভবিষ্যতে অনুরূপ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন আদালত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল হক বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী কারখানাগুলোকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক