গোপালগঞ্জের বৈরাগীর খালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আগামী শুক্রবারের মধ্যে খালটি পরিষ্কার করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 05:53 PM
Updated : 3 August 2022, 05:53 PM

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে গোপালগঞ্জ শহরের বৈরাগীর খালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।

বুধবার পঞ্চম দিনের মত গোপালগঞ্জের সাতটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী ও পৌরসভার শ্রমিকরা খালটি পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছেন।

গত শনিবার গোপালগঞ্জ শহরের যুগশিখা স্কুল প্রান্তে পৌরসভার মেয়র শেখ রকিব হোসেন বৈরাগীর খাল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা কাজের উদ্বোধন করেন।

আগামী শুক্রবারের মধ্যে খালটি পরিষ্কার করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা সময় পেলেই এ কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে দেখছেন ও স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ শহরের ‘প্রাণ’ হিসেবে খ্যাত চার কিলোমিটার দীর্ঘ বৈরাগীর খালটি দখল ও দূষণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ডিসি শাহিদা সুলতানা ২০২১ সালে খালটি দখলমুক্ত করেন। খননের পর খালের মুখে সেতু নির্মাণ করে শহরের মধুমতী নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া হয়। তারপর খালটি প্রাণ ফিরে পায়। গেল শুষ্ক মৌসুমে খালটি কচুরিপানায় ভরে যায়। ফলে খালের পানি পচে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জন্মাতে শুরু করে মশা-মাছি। খালের পানি থেকে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল; দুই পাড়ে অস্ব্যস্থকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ডিসি শাহিদা সুলতানা ও নবনির্বাচিত পৌর মেয়র শেখ রকিব হোসেন খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেন।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল ইসলাম নাজিম বলেন, কচুরিপানায় খালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি পচে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পচা পানিতে মশা-মাছি জন্মে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। কচুরিপানা পরিষ্কার হলে এ সমস্যা দূর হবে। দুই পাড়ে বসবাসকারীরা খালের পানি ব্যবহার করতে পারবেন। এলাকার পরিবেশ রক্ষা পাবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিন উদ্দিন বলেন, সাতটি সংগঠনের ২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও পৌরসভার ৮০ জন শ্রমিক এ খালটির কচুরিপানা শনিবার থেকে পরিষ্কার করছেন। খালটির কচুরিপানা আগামী শুক্রবারে মধ্যে পরিষ্কার করতে সাত দিনের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খালের অর্ধেকের বেশি অংশের কচুরিপানা অপসারণ সম্ভব হয়েছে।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শেখ রকিব হোসেন বলেন, “গত ১৫ জুন পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরই পৌর এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের উদ্যোগ নিয়েছি। শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বৈরাগী খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করছি। এতে পৌরবাসীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। রোগ-বালাই কমবে। খালপাড়ের মানুষ সুস্থ থাকবে।”

গোপালগঞ্জের ডিসি শাহিদা সুলতানা বলেন, রোভার স্কাউট, সূর্য শিশির ফাউন্ডেশন, স্বপ্ন ফেরিওয়ালা, মামাস, আসপ, বিডি ক্লিন, রেড ক্রিসেন্টসহ সাতটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ কাজে অংশ নিয়েছে। তাদের সঙ্গে পৌরসভার শ্রমিকরাও কাজ করছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ জেলা এটি। তাই গোপালগঞ্জকে ক্লিন ও গ্রিন হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ। এতে খালপাড়ে বসবাসরত পাঁচ হাজার মানুষ স্বচ্ছ পানি, নির্মল বাতাস ও পরিবেশ পাবেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক