পাবনায় গুলি করে শ্রমিক লীগের নেতাসহ দুজনকে হত্যা
পুলিশের ধারণা, হাটের ইজারা ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পাবনার আতাইকুলায় গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পুষ্পপাড়া হাটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আতাইকুলা থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা।
নিহত দুজন হলেন- পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা শ্রমিক লীগের নেতা আব্দুস সালাম (৫০) এবং ধর্মগ্রাম এলাকার উমেদ আলী মেম্বারের ছেলে রিপন (৩৮)।
ওসি প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, সালাম ও রিপন পুষ্পপাড়া হাটের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই দুজন লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ শান্ত করে এবং লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাটের লোকজন এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয় নেন। হাটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালে এই পুষ্পপাড়া হাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত আব্দুস সালাম পাবনার চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির’ নেতা আবুল কালামের ভাই। সালাম দীর্ঘদিন ধরে পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জামায়াত-বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি হাটটি ইজারা নেন। এই ইজারাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
