শ্যামনগরের মুন্ডা পল্লিতে ‘হামলা’, জমি দখলের অভিযোগ

মুন্ডা সম্প্রদায়ের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ ‘আট বিঘা’ জমি হামলাকারীরা পাওয়ার টিলার দিয়ে চষে দেয়। এতে মুন্ডাদের চাষের ধান নষ্ট হয়ে যায়।

শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসাতক্ষীরা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 August 2022, 02:01 PM
Updated : 19 August 2022, 02:01 PM

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্ডা সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে তাদের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ধুমঘাট অন্তাখালি মুন্ডা পল্লিতে এ ঘটনা ঘটে বলে এ সম্প্রদায়ের লোকজনের অভিযোগ।

তাদের অভিযোগ, জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করার অনেক পর ঘটনাস্থল পুলিশ আসে; ততক্ষণে হামলাকারীরা ‘আট বিঘা’ জমির ফসল নষ্ট করে সেখানে চাষ দিয়ে চলে গেছে।

হামলায় তিন নারী ও একজন বৃদ্ধ আহত হয়েছেন। এরা হলেন ফনিন্দ্র মুন্ডার স্ত্রী বিলাসী মুন্ডা (৩৬), সনাতন মুন্ডার স্ত্রী রিনা মুন্ডা (৩৫), লক্ষিন্দর মুন্ডার স্ত্রী সুলতা মুন্ডা (৩৫) ও প্রয়াত মল্লুকচান মুন্ডার ছেলে নরেন্দ্র মুন্ডা (৭০)।

তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত রিনা মুন্ডার স্বামী সনাতন মুন্ডার অভিযোগ, স্থানীয় মৃত গফুর সরদারের ছেলে রাশিদুল সরদারের নেতৃত্বে বংশীপুর থেকে প্রায় দুই শতাধিক ভাড়াটে লাঠিয়াল হামলা চালায়।

হামলার সাথে জড়িতরা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে আমরা মুন্ডা সম্প্রদায়ের ভোগ দখলে থাকা জমি দখলের জন্য এই হামলা চালানো হয় বলে তার দাবি।

মুন্ডা পল্লির ফনিন্দ্র মুন্ডার অভিযোগ, আকস্মিকভাবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই থেকে আড়াইশ সন্ত্রাসী মুন্ডা পাড়া ঘিরে ফেলে। এ সময় হামলাকারীরা প্রতিটি পরিবারকে বসত ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের ভোগ দখলে থাকা জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ শুরু করে। এ সময় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে কোনো রকমে নিজেদের ছাড়িয়ে নিয়ে হামরাকারীদের বাধা দিলে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।

রিনা মুন্ডা, সুলতা মুন্ডা ও বিলাসী মুন্ডা ও লক্ষিন্দরয় মুন্ডা মারাত্মকভাবে আহত হন বলে জানান তিনি।

“এক পর্যায়ে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়; ততক্ষণে হামলার সাথে জড়িতরা চাষাবাদ শেষে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছে।”

হামলাকারীরা তাদের রোপন করা ধানক্ষেত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সুন্দরবন আদিবাসী মহিলা সংস্থা – সামস এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন, সন্ত্রাসীদের নারকীয় তাণ্ডবের শিকার তিন নারীসহ এক পুরুষকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “মুন্ডা সম্প্রদায়ের জমি হস্তান্তরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ স্থানীয় কিছু কুচক্রী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে উক্ত জমির মালিকানা দাবি করায় বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় শুক্রবার সকালে উক্ত জমির দখল করতে গিয়ে মুন্ডা সম্প্রদায়ের তিন নারীসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা।”

তার অভিযোগ, দুই শতাধিক হামলাকারী মুন্ডা পল্লিতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে রেখে বিরোধপূর্ণ ‘আট বিঘা’ জমি পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা মুন্ডা সম্প্রদায়ের চাষের জমিতে বেড়ে ওঠা ধান নষ্ট করে দেয় এবং তাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে।

এ ব্যাপারে রাশিদুল সরদার বলেন, তাদের জমি মুন্ডা সম্প্রদায়ের লোকজন অবৈধভাবে দখলে রেখেছিল। শুক্রবার ওই জমি চাষ করতে গেলে তাদের জমিতে নামতে বাধা দেওয়া হয়। কাউকে মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।

শ্যামনগর থানার ওসি কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সটকে পড়ে। এ বিষয়ে এখন লিখিত অভিযোগ পাইনি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক