Published : 16 Mar 2026, 07:15 PM
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর ইউপি সচিবের কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে গেছে বলেও ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দুপুরের এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে ভাটরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুল বলেন, রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার কার্যালয়ে আসে। তারা চেয়ারম্যানকে কক্ষ থেকে বের করে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, ওই ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ ডিলিট করার জন্য ছাত্রদলের নেতারা সচিবের কাছে যায়। তবে সচিব ফুটেজ ডিলিট করতে পারে না বলে জানালে ছাত্রদলের নেতারা সিসিটিভির ডিভাইস (মনিটর) নিয়ে যায়।
ইউপি সচিব সুজন চন্দ্র দাস বলেন, “সিসি ক্যামেরার ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমি ইউএনওকে অবিহিত করেছি। এখনো ছাত্রদলের নেতারা ডিভাইসটি ফিরিয়ে দিয়ে যায়নি। শুনেছি তারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।”
এদিকে চেয়ারম্যান বুলবুলকে হেনস্তা করায় ভাটরা বাজারে রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়। এতে ভাটরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ শেখ উপস্থিত থাকায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে উপজেলা ছাত্রদল।
এ রিপোর্ট লেখার সময় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের তালা খোলা হয়নি এবং ডিভাইসটিও ফেরত দেয়নি ছাত্রদল।
এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, “তিনদিন আগে ভাটরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইফতার পার্টি করেছে। এজন্য আমরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এলাকার লোকজন ছিল তারা সেখানে তালা দিয়েছে। সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ কে নিয়েছে তা খবর নেব।”
তবে চেয়ারম্যান শামছুল আলম বাবুলের দাবি তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমনকি ইফতার মাহফিলের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানাতে যোগাযোগ করা হলে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে ফোন এসেছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানা নেই। খোঁজ নেওয়া হবে।”
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, “বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে জানিয়েছি। এরপর আর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। ”
তিনি আরও বলেন, “সচিবের কক্ষ থেকে যেহেতু ডিভাইস নিয়ে গিয়েছে, সে ঘটনায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছি। চেয়ারম্যানের কক্ষের তালা দেওয়া নিয়ে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।”
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি। তবে থানায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।”