নোয়াখালীতে বিএনপি নেতা হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতাকে পুলিশে দিল জনতা
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার এক বাসিন্দা তার অবস্থান আঁচ করতে পারেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার রাত ৯টার দিকে তাকে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান।
আবদুর রাজ্জাক চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ওরফে তোতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ অগাস্ট চরএলাহী বাজারে বিএনপি নেতা তোতাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ অগাস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ ওঠে, চেয়ারম্যান রাজ্জাক এ হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টার মাইন্ড’ ও ‘নিদের্শদাতা’। এরপর থেকে রাজ্জাক গোপনে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকতেন। রোববার বিকালে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার এক বাসিন্দা তার অবস্থান আঁচ করতে পারেন।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা জড়ো হয়ে রাজ্জাককে ভাটারা থানা এলাকার অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষ থেকে আটক করে থানায় খবর দেয়।
ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিএনপি নেতা আবদুল মতিন তোতা হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রাজ্জাককে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছে। খবর পেয়ে ভাটারা থানার পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশকে ভাটারা থানায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজ্জাককে তোতা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হবে। এরপর আসামিকে নোয়াখালীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।”
এদিকে নিহত তোতার স্বজন, এলাকাবাসী ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ হত্যা মামলার সব আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
