Published : 29 Apr 2026, 04:43 PM
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কুমিল্লার ফসলের মাঠ।
মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১৭টি উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হাজারো কৃষকের কপালে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলছেন, “জেলার ১৭৩৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৫৫০ হেক্টর ভুট্টা, ২৩৫ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা এবং ৩৬৪ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৭টি উপজেলায় কমবেশি কৃষি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে লাকসাম, দাউদকান্দি, নাঙলকোট, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরে ক্ষয়ক্ষতি বেশি।”

মাঠে থাকা অবশিষ্ট ফসল রক্ষা এবং নিমজ্জিত ধান দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষকদের ধান কাটা, মাড়াই ঝাড়াই শেষে ধান ঘরে তোলা ও চাল তৈরি করার জন্য সিদ্ধ করা ও শুকানোর মহোৎসব চলছে।
“এখন পাকা ধান ভিজে মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। এতে ঋণের চাপের পাশাপাশি বছরের খাদ্য ও আর্থিক জোগান নিয়েও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা।”

একই উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট গ্রামের কৃষক শাহদাত হোসেন বলছিলেন, “এ বছর মনোহরগঞ্জে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল। তবে গত দুদিনের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে সেই আশার ফসল লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “ঝড়বৃষ্টিতে ধানগাছ পানিতে ডুবে গেছে। মাঠজুড়ে যে ধান ছিল, মুহূর্তের মধ্যেই সব নষ্ট হয়ে গেছে।”
কৃষক শাহদাতের সঙ্গে একমত পোষণ করে মনোহরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার তুষার বলেন, “ধান ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ধান কেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”