Published : 31 Jul 2025, 09:37 PM
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
এ দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গাজীপুর শহরের শিববাড়ি এলাকায় নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ সময় নিহত জ্যোতির দুই শিশু সন্তানের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা ‘হত্যাকাণ্ড’। নগর কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই জ্যোতির মৃত্যু হয়েছে। এজন্য দায়ী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে।
গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী বলেন, “সিটি করপোরেশনের স্লাবহীন ড্রেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের সংস্কার না করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাগরিকদের কাছ থেকে শুধু ট্যাক্স আদায়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন। নিয়মিত ট্যাক্স দিয়েও নাগরিকরা তার সুবিধা পাচ্ছেন না।”
“কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে; যার ভয়াবহ পরিণতি তরুণীর ড্রেনের ময়লা পানিতে ডুবে মৃত্যু। এ ঘটনা নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় জড়িত সব ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন নাগরিক কমিটির এই নেতা।
গাজীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল বৈরাগী বিপ্লব বলেন, “জ্যোতির মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, এ শহরে নাগরিক নিরাপত্তা কতটা দুর্বল। আজ যদি জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে আগামীকাল আবার কেউ এভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারে।”
মানববন্ধনে ভাষা আন্দোলন পরিষদের সভাপতি আতিকুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং আইনজীবী নূর নবী সরদার বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলো হলো- ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির দুই শিশু সন্তানকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দায়ী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সব খোলা ড্রেন ও ম্যানহোল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ম্যানহোল ও ড্রেন ব্যবস্থাপনায় জনদুর্ভোগ বন্ধে স্বচ্ছ তদারকি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে জ্যোতি টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে যান। নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর শালিকচুড়া বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
নিহত ২৮ বছর বয়সি জ্যোতি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ পাড়ার ওলিউল্লাহ আহাম্মদ বাবলুর মেয়ে। তিনি হোসেন মার্কেট এলাকায় থেকে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
ঘটনার দিন জ্যোতি ওষুধ সরবরাহের কাজে টঙ্গী হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওই খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ হন।