Published : 10 Jul 2024, 08:16 PM
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে; এতে পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
বুধবার সকালে উপজেলার চারাবাড়ী তোরাপগঞ্জ ধলেশ্বরীর নদীর উপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়ক ধসে যায় বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় সড়কটিতে ধস দেখা দিয়েছে বলে দাবি টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)।
জানা গেছে, সদর উপজেলার কাতুলী, হুগড়া, কাকুয়া, মাহমুদ নগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য টাঙ্গাইল-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর চারাবাড়ীঘাটে ২০০৬ সালে ১৭০ দশমিক ৬৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সেতুটি নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছর বর্ষায় কয়েক দফা পূর্ব ও পশ্চিম তীরের সড়ক ধসে যায়। তবে তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহায়তায় বালুর বস্তা ও লোহার পাত দিয়ে সাময়িক সংস্কার করে ধস ঠেকায় এলজিইডি।
স্থানীয় শিক্ষক শওকত আলী বলেন, এ পথ দিয়ে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক।

চরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, তাঁত শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেওয়া করতে প্রতিদিন ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যান চলাচল করে থাকে বলে জানান তিনি।
কলেজ ছাত্র আকতার বলেন, “আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। চলমান পরীক্ষার দিন আমাকে এই সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইল শহরে যেতে হয়। সেতুটি বন্ধ হয়ে গেলে, আমার পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হবে। কারণ বিকল্প পথ অনেক দূর ও ব্যয়বহুল।”
দ্রুত সেতু পাড়ের সড়ক মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
অটোরিকশা চালক বোরহান উদ্দিন বলেন, “কয়েকদিন ধরে একটু একটু করে ধস নামতে থাকে। সকালে যাত্রী নিয়ে এসে দেখলাম, সেতুর পাশের সড়ক ভেঙে গেছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আমরা যানবাহন চালাইতে পারব না।”
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বেড়ে পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বলা হয়েছে।”
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম এ সড়কটি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরিদর্শনে গিয়েছি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে।”
টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়ার পাঠানো হয়েছে। সড়কটি যেহেতু এলজিইডির। তাই এলজিইডির প্রকৌশলীকে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”