Published : 11 Jul 2026, 08:41 PM
সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে জমা পড়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি সোনা, রুপা এবং ১২টি দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় গণনা শেষে এসব তথ্য জানান মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “বাণিজ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় আমরা বাকিরা কাজটি সম্পন্ন করেছি। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সকাল থেকে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সিলেটবাসী, প্রবাসী সিলেটি ও দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরলাম।”
প্রথম দফার গণনার ১৯ দিন পর শনিবার সকালে দানবাক্স খুলে টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় দফায় প্রকাশ্যে টাকা গণনা শুরু হয়।
মাজার কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সোনা, রুপা এবং ১২টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, ভারতের দুই হাজার ৫৩২ রুপি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ওমানের এক দিনার ৪৫০ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ার চার হাজার রুপিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার, কাতারের ২২ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ছয় রিঙ্গিত এবং পাকিস্তানের ৬০ রুপি। এ ছাড়া পাওয়া গেছে নয় গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গণনার পর থেকে মাজারে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গরু ও ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে এক লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়া গেছে।
মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১২ জুন প্রথমবারের মতো দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন।
সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়।