Published : 22 Jul 2023, 07:53 PM
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় এক কিশোরকে চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রাম পুলিশসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের মল্লিকেরবেড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে রামপাল থানার ওসি এস এম আশরাফুল আলম জানান।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় ওই কিশোরের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নির্যাতিত ওই কিশোর রামপাল উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমান সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।
গ্রেপ্তারা হলেন- মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. নাসিম খান (৩৬), কেরামত হাওলাদার (৫০) এবং মাহমুদ ইসলাম (২৫)।
শনিবার সকালে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে আসে। সেখানে দেখা যায়, কিশোরের দুই হাত পেছন দিক নিয়ে এবং দুই পা গামছা দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর একজন মোবাইল ফোন করে এক গ্রাম পুলিশের সদস্যকে ডাকতে শোনা যায়।
একটু পরে চেক লুঙ্গি পরা একজন এসে ওই কিশোরের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে একের পর এক লাথি দিয়ে যাচ্ছেন।
কিশোর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করছে। দুয়েকজন নির্যাতন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ওই লুঙ্গি পড়া লোকটি এসে আবার পিঠে বুকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছেন।
এক পর্যায়ে লুঙ্গি পড়া লোকটি এসে নিজেই তার পা এবং পিঠের বাঁধন খুলে দিচ্ছেন।
কিশোরের দিনমজুর বাবা বলেন, “ছোট ছেলে পড়ালোখায় মনোযোগী না হওয়ায় সে আমাকে মাঝে মধ্যে কাজে সহযোগিতা করে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে আমার ছেলে বাড়ি থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পরেই আমার পাশের বাড়িতে হৈচৈ শুনতে পাই।
“সেখানে আমার ছেলে চুরি করেছে এই অভিযোগে পিঠমোড়া দিয়ে হাত এবং পা দুটি গামছা দিয়ে বেঁধে রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে বেঁধে রেখে গ্রাম পুলিশের সদস্য নাসিম খানকে ফোন দিয়ে ডেকে এনে সরোয়ার, সরোয়ারের স্ত্রী আকলিমা, কেরামত ও মাহমুদ এই পাঁচজনে ছেলেকে বেদম মারপিট করেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে গ্রাম পুলিশের সদস্য নাসিম।”
ওই কিশোরের বাবা বলেন, “আমি ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ওসি এস এম আশরাফুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।