Published : 09 May 2026, 05:43 PM
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বিদেশে লোক পাঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবাকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহম্মেদ।
ভুক্তভোগী আব্দুল মোল্লা (৬২) লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ১২ জনের নামে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গাছে বাঁধা অবস্থায় আব্দুল মোল্লাকে ঘিরে ধরে আছেন একদল লোক। লাঠি দিয়ে একজন তাকে মারধর করছেন। এ ছাড়া তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে স্থানীয় মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুর রহমানকে লিবিয়ায় পাঠান আব্দুল মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমান। সেখানে হাসানুর সমস্যায় পড়লে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্দুল মোল্লাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল হাসানুরের স্বজনরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে আব্দুল মোল্লা মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ঘিরে ধরে একদল লোক। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে মসজিদের সামনের একটি আম গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা হয়।
সেখানে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বৃদ্ধার পাঞ্জাবি ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। এমনকি তার মুখে থুথু নিক্ষেপেরও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। এ সময় আব্দুল মোল্লা অঝোরে কেঁদে ক্ষমা চাইলেও হামলাকারীরা থামেননি।
আব্দুল মোল্লাকে বাঁচাতে তার ভাতিজা মিঠু মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ওসি সাদ আহম্মেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সংগ্রহ করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।”
আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বর্বরোচিত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।