জাবি ভর্তি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের ‘প্রক্সি’, আটক ৭

আটক ভর্তিচ্ছুদের সব পরীক্ষা বাতিল করা হলেও ‘মানবিক’ কারণে তাদের অন্য সাজা দেননি আদালত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Feb 2024, 08:33 AM
Updated : 26 Feb 2024, 08:33 AM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক হিসেবে ‘প্রক্সি’ দেওয়ার অভিযোগে জালিয়াত চক্রের দুই সদস্য ও  পাঁচ ভর্তিচ্ছুসহ সাত জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

রোববার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকে (সম্মান) ভর্তির কলা ও মানবিক অনুষদ ও বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটভুক্ত ভুক্ত 'সি' ইউনিটের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান। 

এ ঘটনায় জালিয়াত চক্রের আটক সদস্যরা হলেন- সাগর হোসেন রোহান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান শাওন। 

জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভর্তিচ্ছুরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন, রাজু আহমেদ, মো. টুটুল হাসান, মো. মেহেদী হাসান, আওয়াল হোসেন আরাফাত।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক নুরুল হুদা সাকিব বলেন, দৃষ্টিশক্তিহীন একজন ভর্তিচ্ছুর জন্য শ্রুতি লেখক হিসেবে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ১৩০নং কক্ষে (গ্যালারি) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রোহান। 

“শ্রুতিলেখক হিসেবে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসার নিয়ম থাকায় রোহানের শারীরিক গঠন ও মুখাবয়ব দেখে স্কুল শিক্ষার্থী হিসেবে তাকে সন্দেহ হয়। পরীক্ষা শেষে উপস্থিত জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে নিজেকে স্কুল শিক্ষার্থী দাবি করলেও পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে স্বীকার করেন রোহান। 

“পাশাপাশি এর সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর নামও উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করার পর অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে বাকিদের নামও বের হয়ে আসে।” 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, "দায়িত্বরত শিক্ষকের মাধ্যমে অবগত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে সকলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও প্রমাণ মিলেছে।" 

আটকের পর জালিয়াত চক্রের সদস্য সাগর হোসেন রোহানকে আশুলিয়ার নির্বাহী হাকিম আশরাফুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছে। 

অন্যদিকে আটক ভর্তিচ্ছুদের সব পরীক্ষা বাতিল করা হলেও ‘মানবিক’ কারণে তাদের অন্য সাজা দেননি আদালত।

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওনকে ছাত্র-শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাকেও ‘মানবিক’ দিক বিবেচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, "যাদের বিরুদ্ধে শ্রুতিলেখক পরিবর্তন করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগ পেয়েছি তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী শাস্তি দিয়েছি। 

“যারা এই চক্রে জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও নিয়ম মোতাবেক পদক্ষেপ নেব।" 

কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, “এ সংক্রান্ত তথ্য এখনো আমার কাছে না পৌঁছায় কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।” 

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, “এ ধরণের ঘটনা এবার প্রথম। আমরা আজকে নতুন অভিজ্ঞতার শিকার হলাম। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলমান থাকবে। সামনে অধিকতর সতর্ক থাকব।” 

এছাড়া একইদিন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক স্কাউট সদস্যকে আঘাতের ঘটনায় সাজিদ হাসান নামে আরও এক ভর্তিচ্ছুর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।